বিয়ের আগের প্রস্তুতি

177263_1

দৈনন্দিন জীবনে অনেক বিষয়েই আমরা আগাম প্রস্তুতি নিই। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো অনেকেরই বিয়ের মতো বড় একটি বিষয়ে আগাম কোনো মানসিক কিংবা শারীরিক প্রস্তুতি থাকে না। যতই চেনাজানা হোক না কেন, বিয়ের পর বাস্তব জীবনের মুখোমুখি হতে হয়। তাই বিয়ের আগে থেকে রোমান্টিকতার পাশাপাশি বাস্তবিক চিন্তাগুলোও করতে হবে। নিতে হবে অন্যান্য প্রস্তুতি।

বিয়ের আগের প্রস্তুতি

সামাজিক বন্ধন হিসেবে বিয়ের আবেদন সেই পুরনো। কেউ কেউ এই বলয়ের বাইরে থেকে চিরকুমার বা কুমারী থাকার চেষ্টা করলেও বিয়ের রীতিটাকে সর্বজনসিদ্ধ রীতি বলা চলে। একে অস্বীকারের জো নেই। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনেকেই বিয়ের আগে তেমন একটা প্রস্তুতি নিতে চান না। কিন্তু জেনে রাখা উচিত, বিয়ে মানেই হচ্ছে একটি নতুন জীবনের সূচনা। যে নতুন জীবনে নিজের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ের সঙ্গেও আরেকজনের সক্রিয় অংশীদারিত্ব শুরু হবে। আর সে কারণেই বিয়ের আগে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে মানসিক প্রস্তুতি।

মানসিক প্রস্তুতির প্রথম ধাপটি হচ্ছে বিয়ের বাস্তবতা উপলব্ধি করা। কেউ কেউ নিজের ভাবনা কিংবা ইচ্ছার সূত্র ধরেই বৈবাহিক সম্পর্কের তাত্পর্য বুঝতে পারেন। আবার অনেক মেয়ে বা ছেলে আগে থেকেই এসব বুঝবে না। তাই মা কিংবা কাছের অভিজ্ঞ কেউ তাকে ইতিবাচকভাবে জীবনের বাস্তবতা বুঝিয়ে বলতে পারেন। ছেলেমেয়ে দুজনকেই পরস্পরের পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলার মানসিকতা থাকতে হবে। তা হলে দাম্পত্য জীবনে অনেক সমস্যা এড়িয়ে চলা যাবে।

নিজের, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজের স্বভাবের কোনো নেতিবাচক দিক থাকলে সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। নিজের সব দিক নিয়ে বিয়ের আগে উভয়ে আলোচনা করলে বোঝাপড়ার শুরুটা ভালো হবে। এটিও ঠিক যে, একেকজনের জীবনযাপন একেকভাবে নির্ধারিত হয়। পারিপার্শ্বিকতায় ভিন্নতা থাকে।

প্রতিটি পরিবারের আলাদা নিয়মকানুন, আচার-ব্যবহার থাকে। সেসব আগে থেকে একটু জানলে পরবর্তী সময় নতুন সদস্যের বুঝতে সহজ হয়। এসব ক্ষেত্রে শুধু মেয়েরাই মানিয়ে চলবে, তা নয়, ছেলেটিকেই বরং সহযোগিতাপরায়ণ হতে হবে। মেয়েটি সব ছেড়ে তাদের পরিবারে আসছে। ছেলেটির পরিবারকে এ বিষয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। ছেলেকে বোঝাতে হবে সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া না করতে। যে কোনো সমস্যা হলে তারা যেন খোলাখুলি আলোচনা করে নেয়। শাশুড়ি নিয়ে অনেক মেয়ের মনে শঙ্কা থাকে। বিয়ের আগে সুযোগ থাকলে মেয়ের সঙ্গে ছেলের পরিবার কথা বলে নিতে পারে। তবে শুরুতেই মেয়েকে নেতিবাচক কোনো বিষয় বলা উচিত নয়। আরেকটা বিষয় মনে রাখতে হবে, দাম্পত্য জীবনে শারীরিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই এক্ষেত্রে কাছের কেউ বা চিকিত্সকের সঙ্গে আগেভাগেই আলোচনা করে নেওয়া যেতে পারে। ছেলের বিয়ের আগেই পরিবারের সদস্যদের মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে তারা যেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী না হন। এমনকি ছেলেরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হওয়া উচিত নয়। অনেক সময় কল্পনা আর বাস্তবতা মিলে যায় না। তখন সমস্যার সৃষ্টি হয়। একটু সচেতন, সহযোগিতাপরায়ণ ও বোঝাপড়া ভালো হলে দাম্পত্য জীবন সুন্দর হতে বাধ্য। এটি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

বিয়ের আগে সুষম খাবার

সুষম খাবার হচ্ছে তা-ই, যাতে খাদ্যের সব পুষ্টিগুণ বিদ্যমান থাকে। বিয়ে বিষয়টা যেমন আনন্দের, তেমনি খানিকটা ভয়েরও বটে। নতুন জীবনের শুরুটা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। অনেকে আবার বিয়ের বাজার ঘোরা কিংবা পারিবারিক চাপ, মানসিক চাপ এবং কাজের চাপে এলোমেলো

হয়ে পড়েন। খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমে অনিয়ম শুরু হয়ে যায়। শরীরে কিন্তু এর ভীষণ খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না যে সুস্থতার পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্যটাও ভিতর থেকেই আসে। এ সময়ে ছেলেমেয়ে উভয়েরই উচিত একটি সুষম ডায়েট মেনে চলা।

স্বভাবতই প্রশ্ন আসতে পারে কেমন হওয়া উচিত একটি ডায়েট প্ল্যান? এক্ষেত্রে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে কোনো একটা শাক রাখতে পারেন। রক্তস্বল্পতার জন্য লালশাক, ক্যালসিয়ামের ঘাটতিজনিত সমস্যায় সরিষার শাক খুব ভালো। কম তেলে সহজে হজম করার মতো রান্না হলেই ভালো।

শরীর ঠাণ্ডা রাখতে লাউ, গাজর, টমেটো, শসা, লেটুসপাতা কাঁচা খেতে পারেন। এতে ত্বক ভালো থাকবে। বাঁধাকপি দিয়ে পায়েস করে খেতে পারেন অথবা ফুলকপি, বিট, বাঁধাকপি সব সবজি মিলিয়ে একটা স্যুপ করেও খেতে পারেন।

যদি সিজন থাকে তাহলে প্রতিদিন অন্তত একটা কমলা খান। এতে দাঁত আর চুলের উপকার হবে, খেতে পারেন আমলকী। আর ভাত, মাছ, ডাল প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা থেকে কোনোভাবেই যেন বাদ না পড়ে। বিয়ের আগে ছেলেমেয়ে অনেকেই ওজন কমানোর জন্য একেবারে খাবার-দাবার ছেড়ে দেন। এটি ক্ষতিকর। ডায়েট মানে না খেয়ে থাকা নয়। যারা ওজন কমাতে চান অথবা যে ওজনটি আছে, সেটি আর না বাড়াতে চান, তারা ডুবো তেলে ভাজা খাবার, ফাস্টফুড, মিষ্টি খাবার ও সোডাজাতীয় পানীয়গুলো খাওয়া ছেড়ে দিন। চিনি ও দুধ ছাড়া সবুজ চা খেতে অভ্যস্ত হয়ে যান। যাদের ওজনটা মনে হচ্ছে একটু বেশিই বেড়ে গেছে, তারা একজন ভালো পুষ্টিবিদের কাছ থেকে একটা ডায়েট চার্টও করিয়ে নিতে পারেন।

সুস্থতায় ব্যায়াম…

মানসিক চাপ কমাতেও ব্যায়ামের মতো কাজের বিকল্প আর নেই। যে কোনো বিষয় নিয়ে যারা একটু বেশি মানসিক চাপে থাকেন, তাদের উচিত ইয়োগা চর্চা করার। যারা স্বল্প গড়নের দেহের অধিকারী, তারা অ্যারোবিক্সও করতে পারেন। চোখ বন্ধ করে নাচের তালে তালে এ ব্যায়াম মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি শরীরের বাড়তি ওজন কমাতেও কার্যকর। আপনি চাইলে সিডি কিনে বাসায় নিজেও ব্যায়ামটি করতে পারেন।

যারা একটু ভারী গড়নের, তারা যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে অবশ্যই জিম বেছে নিন। ক্যালরি পোড়ানো, ওজন কমানো, পেশির শক্তি বাড়ানো— এ তিনটি ক্ষেত্রেই ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য জিম ভালো কাজে দেয়। যাদের স্বাস্থ্যসম্পর্কিত জটিলতা রয়েছে, তারা প্রতিদিন ১ ঘণ্টা হাঁটতে পারেন জিমের পরিবর্তে। যারা জিম করবেন, তারা অবশ্যই তিন থেকে চার মাস প্রস্তুতির সময় রাখুন হাতে।

কনের দরকার বিশেষ প্রস্তুতি

বিয়ের আগে সবচেয়ে বেশি ধকল যায় কনের ওপর দিয়ে। এমনকি সব আয়োজনের কেন্দ্রেও থাকতে হয় তাকেই। আর সে কারণে তার প্রস্তুতিটাও হওয়া উচিত বিশেষভাবেই।

বিয়ের আগে মেয়েদের প্রচুর স্ট্রেস যায়। নতুন জীবন নিয়ে থাকে দুশ্চিন্তা। শপিং, এটা-ওটা করে শরীর থাকে ক্লান্ত। এতে করে শরীরে আয়রন, ভিটামিন স্বল্পতা দেখা দেয়। প্রতিদিন রাতে দরকারি ভিটামিন যেমন— বি কমপ্লেক্স, আয়রন ট্যাবলেট নেওয়া উচিত। এতে করে ত্বক ফ্রেশ থাকবে। এই পদ্ধতি বিয়ের কয়েক মাস আগ থেকেই অনুসরণ করা উচিত।

প্রতিদিন একটা রুটিন মেনে চলা উচিত। যেমন— সকালে ঘুম থেকে উঠেই ভালো করে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া, ভালো ব্র্যান্ডের কোনো ক্রিম লাগানো, বাইরে গেলে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন লাগানো উচিত। সপ্তাহে দুই দিন চুলে তেল দিতে হবে আর প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে ।

প্রতি মাসে একবার পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করাবেন নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী, সপ্তাহে একবার মেনিকিউর, পেডিকিউর করাবেন। চুলের জন্য একবার প্রোটিন প্যাক লাগাতে পারেন, হট অয়েল ম্যাসাজও করতে পারেন। এতে করে চুলে খুশকি কমবে, চুল নরম থাকবে।

শেষ সময়ের জন্য কিছুই ফেলে না রেখে বিয়েতে যার কাছে সাজবেন তাকে আগেই বুকিং দিয়ে রাখুন।

বিয়ের এক সপ্তাহ আগে একবার ফেসিয়াল করিয়ে নিন ভালো কোনো পার্লার থেকে। চুলটা চেহারার সঙ্গে মানিয়ে একটা শেপ দিয়ে নিতে পারেন বা একটু ছেঁটে নিতে পারেন।

রেগুলার মুখে প্যাক লাগাবেন। প্রতিদিন রাতে দুধের সঙ্গে কাঁচা হলুদ মিক্স করে খাবেন। এতে ত্বকের রং উজ্জ্বল হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ইসবগুলের ভুসি খাবেন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন।

অবশেষে আগের রাতে ভালো একটা ঘুম দেবেন আর বিয়ের দিন একটা আরামদায়ক গোসল দিয়ে নিন, দেখবেন কতটা ফ্রেশ দেখায়।

সুন্দর করে সাজার আগে নিত্যদিনের মতো ভালো করে মুখ ধুয়ে, টোনার ও ক্রিম লাগিয়ে নিন। এতে করে মুখে ভালো করে মেকআপ বসবে। সাধারণত শীতের দিনেই বেশি বিয়ে হয় কিন্তু যদি গরমের দিনে বিয়ে হয় তবে মেকআপ করার আগে ৪/৫ টুকরা বরফের কিউব ঘষে নিন মুখে এবং শেষে মেকআপ সেটিং স্প্রে দিয়ে ৩/৪ বার স্প্রে করে নেবেন— এর ফলে মুখ ঘামবে না।

Likes(1)Dislikes(0)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

About nikahreg

marriage knowlage in Bangladesh, divorce in Bangladesh, Divorce rate in Bangladesh, Child marriage in Bangladesh, Coulple life in Bangldesh. marriage culture in Bangladesh. marriage portal in Bangladesh, Marriage registration form, muslim marriage registration, hindu marriage registration rules, wedding in Bangladesh, wedding culture, marriage related laws, marriage maker in Bangladesh, matrimony web portal in Bangladesh, find husband and wife in Bangladesh, Community center in Bangladesh.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*