হানিমুনে গিয়ে যে ৭টি জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখবেন

21

শীতকাল । ঠান্ডার চোটে একা বিছানায় জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে থাকা! শীতের সেই তীব্রতা থেকে মুক্তি পেতে এই সময়টাতে বিয়ের ধুম পড়ে যায় । বিয়ের মওশুম শুরু হয়েছে। চেনাজানার মধ্যে যত আইবুড়ো ছেলেমেয়ে ছিল, সবাই টপাটপ বিয়ে করছে। আর বিয়ের সিজ়ন শুরু হওয়া মানেই তো বিরাট খরচ। এক পক্ষের পকেট খালি। অন্য পক্ষের পকেট ভারী।এসময় কেটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজার, পুরুত, জহরি, শাড়ির দোকান, ফুলওয়ালা, ফোটোগ্রাফার – সবারই পোয়াবারো। আর পোয়াবারো হোটেলগুলোর। সারি দিয়ে রুম বুক করে নবদম্পতিরা। হানিমুন বলে কথা।

বিয়ে, ফুলশয্যা – একের পর এক অনুষ্ঠান কাটিয়ে শেষমেশ হানিমুনে থিতু হওয়া। একান্তে কয়েকটা দিন কাটানো। বরের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে জীবনে হয়তো সেই প্রথম কোনও পুরুষের সঙ্গে বেড়াতে যায় কোনও মেয়ে। পুরুষের ক্ষেত্রেও একটা দারুণ উত্তেজনা কাজ করে। হানিমুনে নিজের স্ত্রীকে নিজের করে পাওয়ার উত্তেজনা। এত কিছুর মাঝেও কিন্তু বিপদ ওৎ পেতে থাকে। একা দু-জন সদ্য বিবাহিতকে তাক করে থাকে দুষ্টুলোকের নজর।

তাই সাবধান, উত্তেজনায় গা ভাসিয়ে সতর্ক থাকতে ভুলবেন না।

১. CCTV
– হানিমুন মানেই বর-বউয়ে দুষ্টুমি। একলা হোটেলঘরে অনেককিছু। এই সুযোগটাকেই কাজে লাগায় কোনও কোনও হোটেল। কোথায় কোথায় CCTV ফিট করে রাখে টের পাওয়া মুশকিল। তাই হোটেল সম্পর্কে সচেতন হন। ঘরে ক্যামেরা আছে কিনা যাচাই করে তবেই সেই ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত নিন। চেনাজানার মধ্যে হোটেল বুক করুন। হোটেল সম্পর্কে সবকিছু বাড়ির লোককে জানিয়ে রাখুন।

২. ট্র্যাভেল এজেন্ট
– যদি ট্র্যাভেল এজেন্টের সঙ্গে টুর ঠিক করেন, ভালো মতো খোঁজখবর নিয়ে নিন। তারা কতটা দায়িত্বশীল জেনে নিন। চেনাজানা কেউ যদি তাদের সঙ্গে টুরে গিয়ে থাকে, খোঁজ নিন তাদের থেকেও। ট্র্যাভেল এজেন্সি কীরকম হোটেল দেয়, খাবার কেমন দেয়, নিরাপদ স্থানে রাখে কিনা – সবই আগে থেকে যাচাই করে নিন।

৩. দিনে টুর, রাতে নয়
– নতুন স্ত্রীকে নিয়ে বীরের মতো রাতবিরেতে বেরিয়ে পরবেন না। সকাল সকাল রওনা দিন। যাতে বেলা গড়াতেই গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যেতে পারেন। রাতের দিকে না যাওয়াই ভালো। ভালো এই কারণে, সঙ্গে আপনার স্ত্রী থাকবেন। তার নিরাপত্তার দিকটা আপনাকেই দেখতে হবে। এমনিতেই নতুন দম্পতির দিকে তাক করে থাকে ইভটিজ়ার, চোর, ছিনতাইবাজরা। তাই সাবধান।

৪. গা ভার্তি গয়না নয়
– দেখা যায়, সদ্য বিয়ে হয়েছে, এই খুশিতে গা ভর্তি সোনা, হীরের গয়না পরে বউ চলল হানিমুনে। কেউ কোনও আপত্তিও করে না। রাস্তাঘাটের বিপদের শঙ্কাও হয় না কারও মনে। জানবেন, গয়নার প্রলোভনেই পিছু নেবে চোর, ছিনতাইবাজরা। ঈশ্বর না করুন, হামলাও হতে পারে স্ত্রীর উপর। তাই গয়না যা আছে, মা বা শাশুড়ির জিম্মায় রেখে যান। হানিমুনে যাওয়ার জন্য না হয় জাঙ্ক জুয়েলারির কয়েকটা নেকপিস, ব্রেসলেট ও ইয়ারিং কিনতে পারেন। সেই সঙ্গে সুন্দর হ্যান্ডব্যাগ ও জুতোও ক্যারি করতে পারেন।

৫. হানিমুনে মদ্যপান নয়
– চলো না, চলো না করে একদম মদ্যপান করবেন না। স্ত্রীকেও এ ব্যাপারে একদম উৎসাহ দেবেন না। একে আপনারা নবদম্পতি। এমনিতেই সকলে ঘুরে ঘুরে তাকাবে আপনাদের দিকে। মদ্যপান করছেন দেখে আরও বেশি তাকাবে। সেই দলে যদি খারাপ ব্যক্তি থাকে, টার্গেট হয়ে যেতে পারেন। আপনাদের নেশাতুর অবস্থার সুযোগও নিতে পারে সেই খারাপ ব্যক্তি।

৬. অজানা লোকের সঙ্গে আলাপ নয়
– অনেকে আছে, বাইরে বেড়াতে গিয়ে আশপাশের লোকের সঙ্গে এমন খোশগল্প জুড়ে দেয় যেন কতদিনের চেনা। ফোন নম্বর নেওয়া থেকে শুরু করে, পরবর্তীকালে যোগাযোগও তৈরি হয়। এমন আলাপি মেজাজ থাকলে, সেটা অন্তত হানিমুনে ত্যাগ করুন। প্রয়োজনের বেশি কারও সঙ্গে কথা বলবেন না।

৭. ড্রাইভারের পরিচয়
– যদি গাড়ি করে হানিমুনে যান, গাড়ির নম্বর, ড্রাইভারের নম্বর সব আগে থেকে বাড়িতে জানিয়ে দিন। কোনও ড্রাইভারকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করবেন না। এরাই কিন্তু বিপদে ফেলার মাস্টার। দুষ্টুলোককে এরাই খবর দিয়ে হাওয়া হয়ে যায়। তাই সাবধান। হানিমুনে যান। আনন্দ করুন। কিন্তু সাবধনতা বজায় রেখে।

Likes(0)Dislikes(0)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

About nikahreg

marriage knowlage in Bangladesh, divorce in Bangladesh, Divorce rate in Bangladesh, Child marriage in Bangladesh, Coulple life in Bangldesh. marriage culture in Bangladesh. marriage portal in Bangladesh, Marriage registration form, muslim marriage registration, hindu marriage registration rules, wedding in Bangladesh, wedding culture, marriage related laws, marriage maker in Bangladesh, matrimony web portal in Bangladesh, find husband and wife in Bangladesh, Community center in Bangladesh.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*