নিজেকে একজন সুখী পুরুষ করে তোলার দারুণ কিছু মূলমন্ত্র

আজকালকার যুগে সুখের সংজ্ঞা অনেকটাই যেন পাল্টে গিয়েছে। সুখ নির্ধারণের মাপকাঠিও কেমন যেন বদলে গিয়েছে। কীভাবে সুখী হওয়া যায় সে প্রশ্নের উত্তরে শুধুমাত্র অর্থ-বিত্ত-প্রতিপত্তির কথাই উঠে আসে। কিন্তু আসলেই কি তাই? মোটেই নয়। সুখ হলো সম্পূর্ণ মানসিক একটি ব্যাপার।

প্রশ্ন উঠতে পারে এমন যে, এই ফিচারে শুধুমাত্র পুরুষদের কথা কেন বলা হয়েছে? এর পেছনে কারণ আছে বৈকি! পুরুষেরা স্বভাবতই একটু চাপা স্বভাবের হয়ে থাকেন। নিজেদের আবেগ খুব বেশি প্রকাশ করতে পারেন না। নারীরা অনেকভাবেই আবেগ প্রকাশ করে হালকা হয়ে যান, কিন্তু পুরুষের জন্য কাজটা বড় কঠিন। আর যেহেতু সুখ একটি মানসিকভাবে হালকা থাকার বিষয়, সেহেতু সুখী নারীর চাইতে সুখী পুরুষের সংখ্যা একটু যেন কমই। তবে কিছু কিছু কাজ পুরুষের মনে এই শান্তিটুকু ফিরিয়ে দিতে সক্ষম।

অতিরিক্ত করে ফেলবেন না কোনো কিছুই

একজন পুরুষকে নিতে হয় পুরো পরিবারের দায়িত্ব। এটি সত্যিকার অর্থেই অনেক বড় একটি মানসিক চাপ। এই চাপের মধ্যে থেকে একটু সুখ খুঁজে পাওয়া কষ্টকরই বটে। তারপরও মনে রাখবেন অতিরিক্ত অর্থকড়ি কিন্তু আপনাকে সুখ দেবে না। আপনি সুখী তখনই হবে যখন আপনার জীবনে সব কিছুর ভারসাম্য বজায় থাকবে। অর্থের পেছনে বেশি ছুটলে অনেক কিছুই হারাবেন, সেই সাথে হারাবেন সুখও। তাই ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত কোনো কিছুই করবেন না।

নিজের বন্ধুবান্ধব নির্বাচনে সতর্ক থাকুন

বন্ধু বান্ধব জীবনের অনেকটা অংশ জুড়েই থাকে পুরুষের ক্ষেত্রে। অনেক ধরণের সাপোর্ট বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া যায়। কিন্তু বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভুল জীবনে দুঃখ নিয়ে আসে। সুসময়ের বন্ধুদের পাল্লায় পড়লে জীবন থেকে একেবারে দূর হয়ে যায় সুখ। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার পেছনে এই ধরণের বন্ধুদের অনেক বড় হাত রয়েছে। তাই বন্ধু নির্বাচনের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। সুখী হবেন।

শরীরের প্রতি যত্নবান হোন
স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল কথাটি সকলেই জানেন, কিন্তু মানেন না অনেকেই। বিশেষ করে পুরুষেরা নিজেদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে নজর বেশ কমই করেন। বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার নারীদের তুলনায় পুরুষ বেশি খান। এছাড়া ধূমপান, মদ্যপানের অভ্যাসও থাকে অনেক পুরুষের। এই সকল জিনিস স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মনের ওপরেও অনেক মারাত্মক প্রভাব ফেলে। মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট হয়। মন থেকে দূর হয়ে যায় সুখ।

জীবনসঙ্গিনীকে তার প্রাপ্য সময় দিন

স্বামী বা প্রেমিক পুরুষের অনেক অভিযোগ থাকে নিজের স্ত্রী বা প্রেমিকা নিয়ে। স্ত্রী ও প্রেমিকাকে নিজের অশান্তির কারণ বলে ধরে নেন অনেকেই। কিন্তু আসলেই কি তাই? একটু ভেবে দেখুন তো আপনার স্ত্রী বা প্রেমিকা কি কারণে আপনার সাথে তর্ক করছেন বা ঝগড়া করছেন? অথবা তিনি আসলে কী চাইছেন? দেখবেন বেশীরভাগ তর্ক বা ঝগড়ার মূল কারণ হচ্ছে আপনার তার প্রতি কেয়ার না করা, সময় না দেয়া। জীবনসঙ্গিনীকে তার প্রাপ্য সময় দিয়ে দেখুন তো এই ছোটোখাটো ব্যাপারগুলোতে আর তর্ক বাঁধে কিনা।

মনে ক্ষোভ বা দুঃখ পুষে রাখবেন না বেশীদিন
কষ্ট পেলে কিংবা কারো দ্বারা প্রতারিত হলে রাগ, ক্ষোভ এবং দুঃখ পাওয়া যায়। কিন্তু মনের মধ্যে এইসকল জিনিস পুষে রাখলে মানসিক স্বস্তি একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিশোধ পরায়নতা এবং দুঃখবিলাসী হওয়া সুখী মানুষের লক্ষণ নয়। পুরুষের মধ্যে এই জিনিসগুলো নজরে বেশি পড়ে। কারণ পুরুষ নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতে পারেন না এবং নিজের মনের কথাও কারো সাথে সঠিকভাবে শেয়ার করেন না। কিন্তু যদি সুখ চান তবে এই কাজটি বাদ দিন। মনে ক্ষোভ বা দুঃখ পুষে রাখবেন না বেশীদিন।

Likes(0)Dislikes(0)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

One thought on “নিজেকে একজন সুখী পুরুষ করে তোলার দারুণ কিছু মূলমন্ত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*