মিশ্র সংস্কৃতি

                                   মিশ্র সংস্কৃতি

 

অনেকটাই মিশ্র একটা সংস্কৃতি আমাদের দেশে প্রত্যক্ষ করা যায়। রাস্তায় যেমন দেখা যায় পশ্চিমা পোশাকে ঘুরে ফেরা মানুষজন, তেমনি আছে আরবি সংস্কৃতিকে ধারণকৃত পোশাক পরিহিত মানুষ জন। এমনকি দেখা যায় হিন্দু ধর্মের শাখা-সিঁদুর বা ধুতি পরা নাগরিক কে। এই চিত্র বিশ্বের খুব কম জায়গাতেই কি প্রত্যক্ষিত হয় না ?

এমন চরিত্রের একটা দেশকে কেন কোন একটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বাধার চেষ্টা। যার যেটা ভাল লাগে, যে যেদিকে যেতে চায় যাক না। এর নাম ই ত স্বাধীনতা। শুধু কারো ক্ষতি না করলেই ত হয় কেউ। পড়ুক না কেউ ওয়েস্টার্ন বা আরবি বা হিন্দু ঐতিহ্যের পোশাক, তাতে সমস্যাটা কি? করুক না যে যার ইচ্ছেমত সংস্কৃতির সেবা।সবাই ভাল হলে, দেশের জন্য, নিজের জন্য একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করে গেলে কি আমাদের এত ভাবতে হত এসব নিয়ে ,নাকি ভাবার সময় পেতাম?

যাই হোক, আমার কাছে মনে হয়, এখনকার বাংলাদেশের মানুষগুলোর সাংস্কৃতিক চিন্তা-চেতনা এবং মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে তিনটি ধারা লক্ষ্য করা যায়।

# বাংলা ভাষা এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে ধারণ, আংশিক হিন্দু সংস্কৃতির ধারক

# আরব তথা ইসলামী আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির ধারক

# আধুনিকতার নামে পশ্চিমা সংস্কৃতির ধারক

# বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির ধারক শ্রেণী মনে করে বাংলাদেশের স্থানীয় ভাষা এবং সংস্কৃতিই এই দেশের মূল।সবার আগে অবশ্যই রাখতে হয় ভাষাকে কারণ এই ভাষাই আমাদের জাতিয় পরিচয় বহন করে এবং আমাদের দেশটাকে বাংলাদেশ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমার মনে হয় এই শ্রেণী নিজেদের বাঙ্গালী বলতে যেমন কুণ্ঠাবোধ করে না তেমন বাংলাদেশি বলতেও না। কারণ আমাদের বাঙ্গালী বললেই যে আমরা কলকাতার দাদা (!!)দের সাথে মিলে যাব তা কিন্তু নয়। কারণ আমাদের সাথে কলকাতার শুধুমাত্র ভাষার সম্পর্ক ছাড়া সংস্কৃতিতে অনেক পার্থক্য আছে বলেই আমার মনে হয়।

এই চেতনার ধারক মানুষগুলো সত্যিই বাংলা ভাষা এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে মনে প্রাণে ধারণ করতে চায়। তবে শত আগ্রাসনে বাংলার অবহেলিত সংস্কৃতি কখনোও মাথা উঠিয়ে দাড়াতে পারে নি। হিন্দু সংস্কৃতির আগ্রাসনে যেমন হিন্দুদের অনেক আচার-আচরণ বাংলাদেশের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল একসময় তেমনি আজ পশ্চিমা সংস্কৃতি এবং আরবের ইসলামী সংস্কৃতি আবার ঝেঁকে বসেছে বাংলাদেশের পরিমণ্ডলকে।তবে আমার মনে হয় এই শ্রেণীটা নিজেদের অজান্তেই নিজেদের সংস্কৃতি মনে করে যা ধারণ করছে তা অনেকটাই হিন্দু সংস্কৃতি।

আশার বিষয় হলো মানুষ যখন খাদের কিনারায় এসে দাড়ায় তখন সহজাত প্রবৃত্তি অনুসারে ঘুরে দাড়ায়। যেমন বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির উপর পাকিস্তানের আগ্রাসন চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সারা দেশ ১৯৭১ এ।সবাই ভোগ বিলাস বা ধর্মীয় গোঁড়ামি ভুলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি, সর্বোপরি বাংলাদেশের মানুষের নিজ অধিকার আদায়ের জন্য আমাদের সহজাত বিদ্রোহী মনোভাব জেগে উঠেছিল, ঝাঁপিয়ে পরেছিল সবাই মুক্তিযুদ্ধে।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়কার জাগরণ ধরে রাখতে পারে নি তখনকার প্রজন্ম। তার পরবর্তী কোন সময়ের আর দেখা যায় নি বাংলা ভাষা বা সংস্কৃতির জন্য সবার সেই সম্মিলিত ঝিলিক।বরং এই চল্লিশ বছরে ভোগবাদী ভারতীয়-পশ্চিমা সংস্কৃতি এবং আরবি আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির আগ্রাসনে সর্বকালের সবচাইতে অসহায় অবস্থায় আছে আমাদের নিজস্ব ভাষা এবং সংস্কৃতি। তারপর ও একটা শ্রেণী এই ভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করে পৃথিবীতে একটা বাঙ্গালী জাতি হিসাবে মাথা তুলে দাড়াতে সংকল্পবদ্ধ। এরা আছে বলেই আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চরিত্রটা এখনো অটুট, বাংলা ভাষাটাও ধীরে ধীরে মজবুত অবস্থানে যাবে এদের হাত ধরে।

 

Likes(0)Dislikes(0)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন