ইভটিজিং এবং তার প্রতিকার

ইভটিজিং বা উত্যক্ততা কি এবং কেন? ইভটিজিং বন্ধে চাই জনসচেতনতা।

ইভটিজিং: ইভটিজিং বলতে কোন মানুষকে বিশেষ করে কোন নারী বা কিশোরীকে তার স্বাভাবিক চলাফেরা বা কাজ কর্ম করা অবস্থায় অশালীন মন্তব্য করা, ভয় দেখানো, তার নাম ধরে ডাকা এবং চিৎকার করা, বিকৃত নামে ডাকা, কোন কিছু ছুঁড়ে দেয়া, ব্যক্তিত্বে লাগে এমন মন্তব্য করা, ধীক্কার দেয়া, যোগ্যতা নিয়ে টিটকারী দেয়া, তাকে নিয়ে অহেতুক হাস্যরসের উদ্রেক করা, রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ধাক্কা দেয়া, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করা, ইঙ্গিতপূর্ণ ইশারা দেয়া, সিগারেটের ধোঁয়া গায়ে ছাড়া, উদ্দেশ্যমূলকভাবে পিছু নেয়া, অশ্লীলভাবে প্রেম নিবেদন করা, লম্পট চাহনী, সম্মতির বিরুদ্ধে শরীরে হাত দেয়া। উদ্দেশ্যমূলকভাবে গান, ছড়া বা কবিতা আবৃত্তি করা, চিঠি লেখা, পথরোধ করে দাঁড়ানো, প্রেমে সাড়া না দিলে হুমকি প্রদান, মুঠোফোনে বার বার মিসড কল দেয়া, অশ্লীল মেসেজ পাঠানো, যৌন অর্থবাহী ছবি বা ভিডিও দেখানো, প্রেম ও যৌন সম্পর্ক স্থাপনে চাপ প্রয়োগ, ব্লাকমেইল বা চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে স্থির অথবা চলমান চিত্র ধারণ করা, যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির কারণে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিক্ষাগত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা ইত্যাদিও ইভটিজিং এর মধ্যে পড়ে। বর্তমানে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার যুগে মোবাইল ফোন, ফেসবুক, ব্লগ এবং ই-মেইলের মাধ্যমেও ইভটিজিং হয়ে থাকে।

farzul_1340746963_2-001    images

images(2)

images(3)

   ইভ-টিজিং (Eve-teasing) কেন হয়?

প্রত্যেকটি মানুষের রক্তের ভেতরেই তার স্বভাবের পরিচয় নিহিত রয়েছে। কেও সেটি বিবেকের শাসনে দমিত রাখে, কেও পারে না। যে পারে না, তার যুক্তি নজরুল ইসলামের ভাষায় ‘ তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সেকি মোর অপরাধ?’
না অপরাধ নয়, চেয়ে থাকা অপরাধ নয় যদি সে চাহনিতে কোন দূরভিসন্ধি না তাকে। কিন্তু অনেকের চাহনি নিষ্কলুস নয়, বিশেষ করে টিন এজারদের , যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৯ ।

এই সময়টাতে পিতামাতা বা অভিভাবক কর্তৃক নৈতিক শিক্ষা না পেলে  তারা বেয়ারা বা বখাটে হয়ে যায় । তখন সে ইভটিজিং সহ অন্যান্য অপরাধে আসক্ত হয় ।

যে কারণে ইভ-টিজিং হয়-
১) ধর্মীয় অনুশাসন না থাকার কারণে, ২) নৈতিক জ্ঞানের অভাব থাকলে। ৩) নারীকে অবলা মনে করলে, ৪) পাশ্চাত্যের ফ্রি সেক্সের প্রভাবে, ৫) প্রেমের কারণে বা প্রেমে ছ্যাকা খাওয়ার কারণে, ৬) রমণীর দেহ উপবোগের মোহে, ৭) অভিভাবকের অতি প্রশ্চয় বা উদাসিনতার কারণে, ৮) নাটক, সিনেমা, গল্পে, উপন্যাসে বিবাহ পূর্ব প্রেমলীলা/পরকীয়া প্রেমের কারণে, ৯) সমেচ্ছ মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে, ১০) ইভ-টিজিং এর পরিনাম না জানার কারণে, ১১) ধনী লোকের জামাই হওয়ার লোভে, ১২) অতি আধুনিকা মেয়েদের অশালীন আচরণের কারণে, ১৩) ভূক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় না নেয়ার কারণে, ১৪) আইন শক্তিশালী না হওয়ার কারণে, ১৫) আইনের প্রয়োগ না থাকার কারণে, ১৬) পাঠ্য পুস্তুকে আছে, এমন কিছু অনৈতিক পাঠ্য করে বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখাতে যেয়ে।

   ইভটিজিং এর প্রতিকার-

ইভ-টিজিং হতে নিস্তার পেতে হলে ধর্মীয় বিধি নিষেধ মেনে চলা তথা কোরআন ও হাদিসের আলোকে নিজেদেরকে পরিচালিত করলেই শুধূ ইভ-টিজিং এর কবল হতে মূক্তি পাওয়া সম্ভব। কারন সকল সমস্যার সমাদান দিতে পারে একমাত্র আল-কোরআন। আসুন আমরা আমাদের সকলের ব্যক্তিগত জীবনের একমাত্র অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আল-কোরআনকে বেছে নেই। শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয় রাস্ট্রের অপারেটিং সিস্টেমও যেন আল-কোরআন হয় সেই প্রচেষ্টায় আমরা শরীক হই।

আজ বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুশাসন কি অনেকেই জানেন না তাই তাদেরকে পৃথকভাবে ইভ-টিজিং প্রতিরোধে কিশোর/তরুদের করনীয় ও কিশোরী/ তরুনীদের করনীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হ’ল। আশাকরি এগুলো মেনে চললে কিছুটা সূফল পাওয়া যাবে আমার বিশ্বাস।

কিশোর তরুনদের করণীয়-
১) ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে, ২) আবেগকে সংযত রাখতে হবে, ৩) অনৈতিক চিন্তা বাবনা পরিহার করতে হবে, ৪) নিজেকে সৎ হতে হবে, ৫) বিবাহ পূর্ব প্রেম-প্রীতি পরিহার করতে হবে, ৬) বখাটে বন্ধুদের এড়িয়ে চলতে হবে, ৭) মেয়েদেরকে মায়ের জাত মনে রেখে তাদের উপযুক্ত সম্মান দিতে হবে, ৮) কোন মেয়ে আক্রান্ত হলে তাকে সাহয্যের জন্য এগিয়ে আসতে হবে, ৯) সম্প্রীতির মনোভাব বজায় রাখতে হবে, ১০) হিংসা প্রতিহিংসা পরিহার করতে হবে।

কিশোর তরুনীদের করনীয়-
ইভ-টিজিং বন্ধে তরুনিদেরকেও ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে হবে। কথায় বলে- এক হাতে তালি বাজে না। ইভ-টিজিং এর জন্য কেবল পুরুষদেরকেই দায়ী করা যায় না, নারীরাও অনেক ক্ষেত্রে জড়িয়ে পরে। কাজেই তরুনী তথা নারীদের করনীয় ভূমিকা উল্লেখ করা হ’ল।
১) ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে, ২) সবক্ষেত্রে উগ্রতা পরিহার করতে হবে, ৩) আচার আচরণে নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী হতে হবে, ৪) অশালীন আচরন ও পোষাক পরিহার করতে হবে, ৫) পর-পুরুষদের এড়িয়ে চলতে হবে, ৬) পর্দা প্রথা মেনে চলতে হবে, ৭) আপত্তিকর আচরনের শিকার হলে শিক্ষক ও অভিভাবককে জানাতে হবে, ৮) লজ্জা নারীর ভূষন- মনোভাব বজায় রেখে চলতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করনীয়-
১) শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমন্বয়ে সাপ্তাহিক, বা পাক্ষিক বা মাসিক মিটিং করে ছাত্র ছাত্রীদের ইভ-টিজিং এর কুফল বা পরিনাম সম্পর্কে সজাগ করে দিতে হবে, ২) শ্রেণী শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষার্থীদের যেকোন অভাব অভিযোগ শোনা ও শুনানীর ব্যবস্থা করতে হবে, ৩) প্রত্যেক শ্রেণী বা বিভাগ থেকে ৩/৪ জন করে ছাত্রীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে- যারা আক্রান্ত ছাত্রীদের পাশে দাড়াবে এবং তাৎক্ষনিকভাবে শ্রেণী শিক্ষকের কাছে রিপোর্ট করবে, ৪) ৪/৫ জন শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি প্রাথমিক কমিটি গঠন করতে হবে যাদের কাছে শ্রেণী শিক্ষকগন প্রাথমিক ভাবে রিপোর্ট করবেন, ৬) প্রতিষ্ঠান প্রধান যিনি- তিনি সবসময় কমিটির কার্যক্রম মনিটরিং করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন, ৭) ক্যাম্পসে ক্লাস চলাকালে কেউ ক্লাস ফাকি দিচ্ছে কিনা- সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন, ৮) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা আছে কিনা সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন, ৯) প্রতিষ্ঠান প্রধান রাজনৈতিক দল সমূহের স্থানীয় শাখার সকল সদস্যদের সাহায্য সহযোগিতা চাইবেন এবং পর্যায়ক্রমে সাপ্তাহিক/পাক্ষিক/মাসিক মিটিংএ তাদেরকে আমন্ত্রন জানাবেন।

সামজিকভাবে করনীয়-
১) সামজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বখাটের পরিবারকে‌ ‘একঘরে’ করে রাখতে হবে, ২) শান্তির স্বার্থে সংকীর্ন দৃষ্টি ভংগি উদার করতে হবে। অপরের দুঃখে সমবেদনা জানাতে হবে, ৩) ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হতে হবে, ৪) উঠতি বয়সী সন্তানদেরকে চোখে-চোখে রাখতে হবে, ৫) মেয়েদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হতে হবে, ৬) রাস্তার মোড়ে, গাছ তলায়, ব্রিজের উপর, চায়ের দোকানের সামনে বকাটে ছেলেদের আড্ডা বন্ধ করে হবে।

 

Likes(1)Dislikes(0)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন