নিবন্ধন নিয়ম

বিয়ের কাবিন ও নিবন্ধন

নাগরিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে সব সম্প্রদায়ের [মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান] বিয়ের নিবন্ধন প্রয়োজন। মুসলিম বিয়ের জন্য কাজি অফিসের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরের পুরোহিত এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা চার্চের যাজকের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। বিয়ের সার্টিফিকেট বাংলা ও ইংরেজি দুটো ভাষাতেই হয়।

মুসলিম বিয়ে

কাবিন ও নিবন্ধন

মুসলিম নারী ও পুরুষের বিয়ের নিবন্ধন আবশ্যক। কাজি বা রেজিস্ট্রারকে দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। এক্ষেত্রে কনেকে অবশ্যই ১৮ বছর বা তার ঊর্ধ্বে হতে হবে এবং বরকে হতে হবে ২১ বছর বা তার ঊর্ধ্বে।

বিয়ে রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন-

* জাতীয় আইডি কার্ড

* স্কুলের সার্টিফিকেট যেমন জেএসসি/জিডিসি/এসএসসি/এইচএসসি

* পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট

* ন্যূনতম দুজন সাক্ষী

* এ ছাড়া পাত্র বা পাত্রীর একজন অভিভাবক থাকবেন, যিনি উকিল বাবা হবেন।

বিয়ের নিবন্ধন ফি

বিয়ের নিবন্ধন ফি মোহরানার ওপর নির্ভর করে।

মোহরানা প্রতি লাখে ১২৫০ টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া চার লাখের বেশি হলে প্রতি লাখে আরো ১০০ টাকা যোগ করতে হবে।

আনুষ্ঠানিকতা

ধর্মীয়

কাজিকে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা করতে হবে। তিনি বিয়ের জন্য সুরা পাঠ এবং অন্য আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করবেন।

আইনগত

বিবাহ রেজিস্ট্রার বা কাজি ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে বিবাহ নিবন্ধন বই পূরণ করবেন। পূরণ করার পর বর ও কনে বিবাহ নিবন্ধন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। বিবাহ রেজিস্ট্রার বা কাজি তাদের কাবিননামা সংগ্রহের একটি রসিদ প্রদান করবেন।

কাবিননামা সংগ্রহ

বিয়ের এক সপ্তাহ পর কাবিননামা পেতে পারেন। জরুরি কাবিননামা এক দিনেও সংগ্রহ করা যাবে।

হিন্দু বিয়ে

যেকোনো সমাজব্যবস্থায় ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে বিবাহ হলো নারী-পুরুষের একত্রে বসবাসের সামাজিক চুক্তি। হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী অর্থাৎ হিন্দু আইন অনুযায়ী বিবাহ একটি ধর্মীয় বন্ধনও। সাধারণত একটি হিন্দু বিয়ে বৈধ হবে যদি চারটি শর্ত বিদ্যমান থাকে-

* পাত্র-পাত্রীর বয়স

* মতামত

* যজ্ঞ

* সাতপাক।

হিন্দু বিবাহ আইন

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বর ও কনে। বিবাহের ক্ষেত্রে বর ও কনের জন্য মত প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। রেজিস্ট্রেশনের কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ম নেই। পুরোহিতের সামনে সাতপাকে ঘোরার প্রথা প্রচলিত আছে। বিয়ের সময় সাক্ষী থাকাও বাধ্যতামূলক নয়। বিবাহ অনুষ্ঠান পুরোহিতের সামনে পরিচালিত হয়। দেনমোহরের কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই। বিবাহ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক না হওয়ায় একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর কাছে থেকে তালাক নিতে বা তালাক দিতে পারবেন না।

খ্রিস্টান বিয়ে

খ্রিস্টানদের বিবাহ হলো ধর্মীয় আচার এবং পবিত্র চুক্তি যার মাধ্যমে একজন পুরুষ ও একজন নারী সারা জীবনের জন্য দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করেন। খ্রিস্টান ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী বিবাহের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। খ্রিস্টান আইন অনুযায়ী বর ও কনের মতামত প্রকাশ বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট গির্জায় বিয়ের সময় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে পৌরসভার রেজিস্ট্রারেও নথিভুক্ত করতে হয়। খ্রিস্টান আইনে সাক্ষীর প্রয়োজনও বাধ্যতামূলক।

বিয়ের নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করলে কী উপকার পাওয়া যায়

বিবাহের নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন করা হলে উপকৃত হবে উভয় পক্ষ।

বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করলে যে সনদ পাওয়া যায় সেটি হলো একটি বৈধ বিয়ের দলিল।

রেজিস্ট্রেশনের ফলে বিয়ের সব তথ্য সরকারের তথ্যভাণ্ডারে নথিভুক্ত হয় বলে এর সত্যতা অস্বীকার করা যায় না।

বিবাহে দুই পক্ষই বিশেষ করে নারীরা আইনে প্রদত্ত সব সুরক্ষাসহ তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।

* স্ত্রী স্বামীর প্রতারণার শিকার হলে এই রেজিস্ট্রেশনের সনদই একমাত্র রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

* স্বামীর মৃত্যু-পরবর্তীকালে স্বামীর সম্পত্তির বৈধ অংশসহ অন্যান্য দাবি আদায়ে এই দলিলটি অত্যাবশ্যক।

* এমনকি তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদের সময়ও বিবাহের রেজিস্ট্রেশন একটি অত্যাবশ্যকীয় দলিল।

* স্বামীর অবর্তমানে সন্তানের বৈধ পরিচয় নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হতে পারে।

* কিছু রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহী কোনো নারী যদি নিজের ব্যক্তিগত তথ্য প্রদানকালে নিজেকে বিবাহিত পরিচয় দেন তবে প্রমাণ হিসেবে বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের একটি সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

 

 

Likes(1)Dislikes(0)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন