নামাজ ও অযুর নিয়ম

                          নামাজ পড়ার নিয়ম 

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহতুল্লাহ

সকল প্রশংসা একমাএ মহান আল্লাহর জন্য,যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন । দরুদ ও সালাম তার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি , যিনি সমগ্র বিশ্বমানবতার নবী , নবীকুলের শিরোমনি সৃষ্টিকুলের রহমত ও কল্যাণের প্রতীক । মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত বন্দেগীর  উদ্দেশ্যে ।সেই এবাদত এর অন্যতম একটি হল নামাজ আদায় করা । তাই সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে সঠিক পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে । তা না হলে আমাদের ইবাদত কবুল হবে না ।

জায়নামাজের দোয়া

জায়নামাজে দাড়িয়ে নামাজ শুরুর পূর্বেই এ দোয়া পড়তে হয়,

বাংলা উচ্চারণ : ইন্নি ওয়াজ্জাহ তু ওয়াজ হিয়া লিল্লাজি ,ফাত্বরস সামা-ওয়া-তি -ওয়াল আরদ্বঅ হানি -ফাও ওয়ামা -আনা মিনাল মুশরিকী-ন ।

অর্থ : নিশ্চই আমি তারই দিকে মুখ করলাম , যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং বাস্তবিকই আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুত্ত নই ।

এরপর নামাজের নিয়াত ও তাকবীরে তাহ:রীমা

নামাজের ইচ্ছা করাই হচ্ছে নামাজের নিয়ত করা । মুখে উচ্চারণ করা জরুরী নয় , তবে মুস্তাহব ।

সমস্ত নামাজেই-  নাওয়াই:তু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা

(২ রাকাত হলে) রাক’য়াতাই ছালাতিল

(৩ রাকাত হলে ) ছালাছা রাক’য়াতাই ছালাতিল

(৪ রাকাত হলে ) আর বাআ  রাক’য়াতাই ছালাতিল

(ওয়াক্তের নাম ) ফাজরি / জ্জুহরি /আছরি / মাগরিবী /ইশাই /জুমুয়া’তি

(কি নামাহ তার নাম ) ফারদুল্লা-হি /ওয়াজিবুল্লা-হি /সুন্নাতু রসুলিল্লাহি / নাফলি

(সমস্ত নামাজেই ) তায়া’লা  মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার ।

বাংলায় নিয়াত করতে চাইলে বলতে হবে-

আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ক্কেবলা মুখী হয়ে , (ফজরের /জোহরের /আসরের /মাগরিবের / ঈশার /জুমআর /বিতরের/ তারাবীর / তাহাজ্জুদের / অথবা যে নামাজ হয় তার নাম )  ২রাকাত /৩রাকাত / ৪ রাকাত ( যে কয়  রাকাত নামাজ তার নাম ) ফরজ / ওয়াজিব / সুন্নাত / নফল  নামাজ পড়ার নিয়ত করলাম , আল্লা’হু আকবার ।

সানা :– (হাত বাধার পর এই দোয়া পড়তে হয় )

উচ্চারণ :- সুবহা-না কাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহাম দিকা ওয়াতাবারঅ কাস মুকা ওয়াতা আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলা-হা গাইরুক ।

অর্থ :- হে আল্লাহ ! আমি আপনার পবিএতা ঘোষণা করছি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করছি । আপনার নাম বরকতময় , আপনার মহাত্ন্য সর্বোচ্চ এবং আপনি ভিন্ন কেহই ইবাদতের যোগ্য নয় ।

তাআ’উজ:

উচ্চারণ :- আউযুবিল্লা-হি মিনাশ শাইত্ব-নির রাজীম ।

অর্থ :- বিতাড়িত থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি ।

তাসমিয়া :- বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ।

অর্থ :- পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি ।

এরপর সুরা ফাতিহা পাঠ করতে হয় । সুর ফাতিহা তিলাওয়াতের পর পবিএ কোরআনের যেকোন জায়গা থেকে যে কোন সুরা তিলাওয়াত করতে হয় ।

রুকুর তাসবীহ :-

উচ্চারণ :- সুবহা-না রববি ইয়াল আজ্জ্বীম ।

অর্থ :- মহান প্রতিপালকের পবিএতা ও মহাত্নতা ঘোষণা করছি ।

তাসমী :- (রুকু থেকে দাড়ানোর সময় পড়তে হয় )

উচ্চারণ :- সামি আল্লা হুলিমান হামিদাহ ।

অর্থ:- প্রশংসাকারীর প্রশংসা আল্লাহ শোনেন ।

তাহমীদ 🙁 রুকু থেকে দাড়িয়ে পড়তে হয় )

উচ্চারণ :- রাব্বানা লাকাল হামদ ।

অর্থ :- হে আমার প্রভু , সমস্ত প্রশংসা আপনারই  ।

সিজদাহ :

উচ্চারণ :- সুবহা-না রাব্বিয়াল আলা ।

অর্থ:- আমার প্রতিপালক যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ , তারই পবিএতা বর্ণনা করছি ।

দু’সিজদার মাঝখানে পড়ার দোয়া

উচ্চারণ :- আল্লাহু ম্মাগ ফিরলি ওয়ার হামনি ওয়ার যুক্কনী ।

অর্থ :- হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন , আমাকে রহম করুন , আমাকে রিযিক দিন ।

[হানীফি মাযহারে এ দোয়া পড়তে হয় না , কেউ যদি হানীফি মাযহাব এর হয়ে থাকেন তাহলে এই সময় এক তসবী পড়তে যে সময় লাগে , সেই সময় পর্যন্ত বিরতি দিয়ে পুন:রায় সেজদায় যাওয়া ]

তাশাহুদ বা আত্তাহিয়্যাতু

উচ্চারণ :- আত্তাহিয়্যাতু লিল্লা-হি ,ওয়াছ ছালা-ওয়াতু, ওয়াত-তাইয়্যিবাতু , আচছল মু আ’লাইকা, আইয়্যুহান নাবিয়্যু,ওয়ারাহ মাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু, আচ্ছালামু আলাইনা, ওয়া আ’লা ইবাদিল্লা হিছ-ছালিহীন । আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু , ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু ।

অর্থ :- আমাদের সব সালাম শ্রদ্ধা, আমাদের সব নামাজ এবং সকল প্র্রকার পবিএতা একমাএ আল্লাহর উদ্দেশ্যে । হে নবী , আপনার প্রতি সালাম , আপনার উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক । আমাদের ও আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক । আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচিছ যে , হযরত মুহাম্মদ (স:) আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল ।

দরুদ শরীফ

উচ্চারণ :- আল্লহুম্মা ছাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিও ওয়া আ’লা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা আ’লা ইব্রহীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ । আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মুহাম্মদিও ওয়া আ’লা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা বা-রকতা আ’লা ইব্রহীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ ।

অর্থ :- হে আল্লাহ, দয়া ও রহমত করুন হযরত মুহাম্মদ (স:) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি , যেমন রহমত করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আ:) ও তার বংশধরদের উপর । নিশ্চই আপনি উত্তম গুনের আধার এবং মহান । হে আল্লাহ , বরকত নাযিল করুন হযরত মুহাম্মদ (স:) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি , যেমন করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আ:) ও তার বংশধরদের উপর । নিশ্চই আপনি প্রশংসার যোগ্য ও সম্মানের অধিকারী ।

দোয়ায়ে মাসূরা

উচ্চারণ :- আল্লা-হুম্মা ইন্নী জ্বলামতু নাফসী জুলমান কাছীরও ওয়ালা ইয়াগফিরু যুনুকা ইল্লা আনতা ফাগফিরলি মাগ ফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম ।

অর্থ :- হে মহান আল্লাহ , আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি (অর্থাৎ অনেক গুনাহ /পাপ করেছি) কিণ্তু আপনি ব্যতীত অন্য কেহ গুনাহ মাফ করতে পারে না । অতএব হে আল্লাহ অনুগ্রহ পূর্বক আমার গুনাহ মাফ করে দিন এবং আমার প্রতি সদয় হোন ; নিশ্চই আপনি অতি ক্ষমাশীল  ও দয়ালু ।

দোয়ায়ে কুনুত

(বিতরের নামাজের পর ৩য় রাকায়াতে সুরা ফাতিহা ও অন্য কিরআত পড়ার পর এই দোয়া পড়তে হয় )

উচ্চারণ :- আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতা ঈনুকা ওয়া নাসতাগ ফিরুকা ওয়া নু’মিনু বিকা ওয়া না তা ওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুসনি আলাইকাল খাইর । ওয়া নাশকুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখ লা, ওয়া নাত রুকু মাইয়্যাফ জুরুকা ।আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু ওয়ালাকা নুছাল্লি ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাস’আ, ওয়া নাহফিদু ওয়া নারজু  রাহমাতাকা ওয়া নাখ’শা আযাবাকা ইন্না আযা-বাকা বিল কুফফা-রি মুল হিক ।

অর্থ :- হে আল্লাহ আমরা আপনার নিকট সাহায্য চাই । আপনার  নিকট গোনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি । আপনার প্রতি ঈমান এনেছি । আমরা কেবল মাএ আপনার উপরই ভরসা করি । সর্ব প্রকার কল্যাণ ও মঙ্গলের সাথে আপনার প্রশংসা করি । আমরা আপনার শোকর আদায় করি,আপনার দানকে অস্বীকার করি না । আপনার নিকট ওয়াদা করছি যে, আপনার অবাধ্য লোকদের সাথে আমরা কোন সম্পর্ক রাখব না – তাদেরকে পরিত্যাগ করব । হে আল্লাহ আমরা আপনারই দাসত্ব স্বীকার করি । কেবল মাএ আপনার জন্যই নামাজ পড়ি, কেবল আপনাকেই সিজদা করি এবং আমাদের সকল প্রকার চেষ্টা-সাধনা ও কষ্ট স্বীকার কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্যই । আমরা কেবল আপনারই রহমত লাভের আশা করি । আপনার আযাবকে আমরা ভয় করি । নিশ্চই আপনার আযাবে কেবল কাফের গনই  নিক্ষিপ্ত হবে ।

ওযু করার নিয়ম, তায়াম্মুমের নিয়ম এবং ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ!

আসসালামু আলাইকুম ।

আমরা যারা নামায পড়ি তারা সবাই ওযু করি । কিন্তু আমাদের ওযু কি মুহাম্মদ ( সাঃ ) এর ওযুর মত ???বিশেষ করে আমাদের অনেকেরই নাকে পানি দেয়া , কুলি করা ও মাথা মাসাহ করা সুন্নাত সম্মত হয় না । আসুন ওযুর ফরয ও সুন্নতগুলু জেনে নেই।

হে ঈমানদারগন! তোমরা যখন নামাজের উদ্দেশ্যে ওঠ তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং মাথা মাসেহ কর এবং টাকনু পর্যন্ত ধৌত কর। {সূরা মায়েদা-৬০}

ওযু’র মাসাআ’লা

ওযু’তে ৪ ফরজ :-
(১) সমস্ত মুখমন্ডল ধোয়া।
(২) দুই হাতের কনুই সহ ধোয়া।
(৩) মাথা মসাহ করা।
(৪) দুই পায়ের টাখনুসহ ধোয়া।
ওযু’র সুন্নত সমূহ :-
(১) ওযুতে নিয়ত করা।
(২) ওযুর শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া।
(৩) দুই হাতের কব্জিসহ ৩ বার ধোয়া।
(৪) মিসওয়াক করা।
(৫) ৩ বার কুলি করা।
(৬) ৩ বার নাকে পানি দেওয়া।
(৭) সমস্ত মুখমন্ডল ৩ বার ধোয়া।
(৮) ঘন দাড়ি খিলাল করা (মুস্তাহাব)
(৯) দুই হাতের কনুইসহ ৩ বার ধোয়া।
(১০) দুই হাতের আঙ্গুলী খিলাল করা।
(১১) সমস্ত মাথা ১ বার মাসেহ করা।
(১২) দুই কান মাসেহ করা।
(১৩) গর্দান মাসেহ করা (মুস্তাহাব)।
(১৪) দুই পায়ের টাখনু সহ ৩ বার ধোয়া।
(১৫) দুই পায়ের আঙ্গুলী খিলাল করা।
(১৬) ওযু’র শেষে কালিমায়ে শাহাদাত পড়া (মুস্তাহাব)[আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওহদাহু লা-শারীকালাহু ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাছুলুহু ।]

ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ :-

(১) প্রস্রাব ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হলে।
(২) যে সকল কারণে গোসল ফারয হয় তা ঘটলে।
(৩) বমি হলে।
(৪) ঘুমিয়ে পড়লে।
(৫)সঙ্গাহীন হয়ে পড়লে।
(৬)দেহের কোন স্থান হতে রক্ত, পুঁজ প্রভৃতি গড়িয়ে পড়লে।
(৭) নামাযে উচ্চ স্বরে হাসলে।
তায়াম্মুমের ফরয ৩টিঃ-
                              (১)নিয়ত করা।
                              (২)মুখ মাসেহ করা।
                              (৩) দুই হাত মাসেহ করা।
Likes(11)Dislikes(1)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন