শাকসবজি

 

শাকসবজি ( English: Vegetable) সাধারনভাবে মানুষের খাদ্যপোযোগী উদ্ভিদ  ও তার অঙ্গসমূহকে শাকসব্জি বা শুধুই শাক অথবা সব্জি বলা হয়ে থাকে। শাকহারি বা নিরামিষভোজী  মানুষদের ইংরাজি ভাষায় ভেজিটেরিয়ান (Vegetarian) বলা হয়। সাধারণত গাছের পাতা যা ভাজি করে খাওয়া হয়, তাকে শাক বলা হয় । যেমন – লাল শাক, পুই শাক, কলমি শাক প্রভৃতি ।

 

আলু

ppp

আলু বহুল পরিচিত উদ্ভিদ খাদ্য ।  এটি কন্দজাতীয় (tuber) এক প্রকারের সবজি, যা মাটির নিচে জন্মে। এর আদি উৎস দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, সেখান থেকে ১৬শ শতকে এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। উচ্চ পুষ্টিমান এবং সহজে ফলানো ও সংরক্ষণ করা যায় বলে এটি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রচলিত সবজিগুলো মধ্যে অন্যতম।

বন্য আলুর প্রজাতি উত্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দক্ষিণে উরুগুয়ে এবং চিলিতে পাওয়া যায় ।  বিভিন্ন চাষ করা এবং বন্য প্রজাতির (Genetic) পরীক্ষা ইঙ্গিত করে যে, আলুর উত্পত্তি দক্ষিণ পেরু অঞ্চলে, Solanum brevicaule-এর একটি প্রজাতি থেকে।

আলু একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার। আলু’র বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum। এতে একদিকে যেমনি ভাতের মতো শর্করা আছে তেমনি সবজির মতো খাবার আঁশ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে শর্করা আছে ১৯ গ্রাম, খাবার আঁশ ২.২ গ্রাম, উদ্ভিদ প্রোটিন ২ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.৫২ গ্রাম যার মধ্যে পটাশিয়াম লবণই ০.৪২ গ্রাম, এবং ভিটামিন ০.০

বন্য আলুর প্রজাতি উত্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দক্ষিণে উরুগুয়ে এবং চিলিতে পাওয়া যায় । বিভিন্ন চাষ করা এবং বন্য প্রজাতির (Genetic) পরীক্ষা ইঙ্গিত করে যে, আলুর উত্পত্তি দক্ষিণ পেরু অঞ্চলে, Solanum brevicaule-এর একটি প্রজাতি থেকে।

আলু একটি

২ গ্রাম। অপরদিকে ১০০ গ্রাম চালে ৮০ গ্রাম শর্করা, খাবার আঁশ ১.৩ গ্রাম, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ৭.১৩ গ্রাম, খনিজ লবণ ০.২৮ গ্রাম এবং ভিটামিন আছে মাত্র ০.০০২ গ্রাম। তাই আলুর মধ্যে ভাতের তুলনায় শর্করা কম থাকলেও অন্যান্য উপাদান বেশি আছে। প্রয়োজনীয় খাদ্যপ্রাণ বেশি থাকায় এটি একটি সুষম খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

টমেটো

ppp

টমেটো সোলানেসি (solanaceae) পরিবারের লাইকোপার্সিকন (Lycopersicon) গণের অন্তভুক্ত। টমেটোর কাণ্ড কোমল ও রসাল।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে টমেটো একটি ফল হলেও, সবজি হিসেবেই সারা বিশ্বে টমেটো পরিচিত। সবজি এবং সালাদ হিসেবে ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ টমেটোর বেশ চাহিদা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীদের জন্য এটি একটি বিশেষ অর্থকরী সবজি। সবজি হিসাবে এর ব্যবহার ছাড়াও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পেও এর ব্যবহার সুবিদিত। দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে টমেটো রপ্তানিরও প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। রান্নার উপকরণ হিসেবে এবং খাবারের সাথে টমেটো সসও বেশ প্রচলিত।

আকর্ষণীয়তা, ভাল স্বাদ, উচ্চ পুষ্টিমান এবং বহুবিধ উপায়ে ব্যবহারযোগ্যতার কারণে সর্বত্রই এটি জনপ্রিয়। এ সবজিতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি রয়েছে। টমেটোতে লাইকোপেন নামে বিশেষ উপাদান রয়েছে, যা ফুসফুস, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কোলন, স্তন, মূত্রাশয়, প্রোস্টেট ইত্যাদি অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

টমেটো বাংলাদেশ বিলাতী বেগুন নামে পরিচিত। বাংলাদেশে টমেটো সবজি হিসাবে বহুল প্রচলিত। সবজি হলেও টমোটোর মধ্যে ফলের সমুদয় গুণ বিদ্যমান এবং ফলের ন্যায় এটি রান্না না করেও খাওয়া যায়।

টমেটো আমাদের দেশের একটি প্রধান শীতকালীন সবজি, তবে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালেও টমেটো সাফল্যের সাথে চাষ করা যায়।

গাজর

ppp

গাজর (ইংরেজি carrot)  (বৈজ্ঞানিক নাম Daucus carota) একপ্রকার মূল জাতীয় সবজি। গাজর গাছ Apiaceae পরিবারভুক্ত। এর আদি নিবাস দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং ইউরোপ ।  পৃথীবির প্রায় অর্ধেক গাজরই চীন  দেশে উৎপাদিত হয়। নানা প্রকার খাদ্য তৈরিতে গাজর ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে সালাদে এর ব্যবহার ব্যাপক। একে সাধারণত গৃহের বাগানের সবজি উৎপাদিত করা হয়।

শসা

ppp

শসা (Cucumis sativus) গোর্ড পরিবার কিউকারবিটাসের অন্তর্গত একটি অতি পরিচিত উদ্ভিদ। শসা এক প্রকারের ফল। লতানো উদ্ভিদে জন্মানো ফলটি লম্বাটে আকৃতির এবং প্রায় ১০-১২ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এর বাইরের রঙ সবুজ। তবে পাকলে হলুদ হয়। ভেতরে সাদাটে সবুজ রঙের হয়, এবং মধ্যভাগে বিচি থাকে। এটি কাঁচা খাওয়া হয় বা সালাদ তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। এর উৎপত্তি ভারতবর্ষে হলেও বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব জায়গাতেই জন্মে। এটি সাধারণতঃ গরমের সময় বেশি পাওয়া যায়। বেশ কয়েক জাতের শসা রয়েছে। শশা এক রকমের ফল । এটা দেখতে সবুজ রঙের লম্বা আকারের হয়ে থাকে । এই ফলে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে এবং জলের পরিমাণ বেশী থাকে । খোসা সহ একটি কাচা শশা’র প্রতি ১০০ গ্রামে ক্যালরীর পরিমাণ ২০ কিলো ক্যালরী। বাংলাদেশে শশা প্রধাণত সালাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

করলা

ppp

করলা (করল্লা, উচ্ছা, উচ্ছে) এক প্রকার ফল জাতীয় সবজি। ইংরেজিতে একে Balsam pear, alligator pear, bitter gourd, bitter melon, bitter cucumber ইত্যাদি বলা হয়। করলা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Momordica charantia যা Cucurbitaceae পরিবারভুক্ত এক প্রকার লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এছাড়া ওকিনাওয়ার আদি ভাষা থেকে উদ্ভূত ‘গয়া এবং সংস্কৃত  থেকে উদ্ভূত ‘কারাভেলা’ নাম দুটিও ইংরেজি ভাষায় প্রচলিত। করলার আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ, যা ১৪শ শতাব্দিতে চীনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । 

ঢেঁড়শ

ppp

ঢেঁড়শ (অন্য নাম ভেন্ডি) Malvaceae পরিবারের এক প্রকারের সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি তুলা, কোকো ও হিবিস্কাসের সাথে সম্পর্কিত। ঢেঁড়শ গাছের কাঁচা ফলকে সবজি হিসাবে খাওয়া হয়। ঢেঁড়শের বৈজ্ঞানিক নাম Abelmoschus esculentus; অথবা Hibiscus esculentus L।

ঢেঁড়শ গাছ একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ, যা ২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর পাতা ১০-২০ সেমি দীর্ঘ এবং চওড়া। পাতায় ৫-৭টি অংশ থাকে। ফুল হয় ৪-৮ সেমি চওড়া, পাঁপড়ির রঙ সাদাটে হলুদ, ৫টি পাঁপড়ি থাকে। প্রতিটি পাঁপড়ির কেন্দ্রে লাল বা গোলাপী বিন্দু থাকে। ঢেঁড়শ ফল ক্যাপসুল আকারের, প্রায় ১৮ সেমি দীর্ঘ, এবং এর ভেতরে অসংখ্য বিচি থাকে।

বেগুন

ppp

বেগুন এক প্রকারের সবজি । বেগুন গা্ছের ফলকে রান্না করে খাওয়া হয় । এর আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়া । এটি টমেটো ও আলুর সা্থে সম্পর্কিত ।

বেগুন গাছ প্রায় ৪০ থেকে ১৫০ সেমি দীর্ঘ হয় । পাতাগুলো ঘন এবং প্রায় ১০ থেকে ২০ সেমি দীর্ঘ ও ৫ থেকে ১০ সেমি প্রশস্ত হয় । বুনো বেগুন গাছ আরো বড় হতে পারে । বেগুনের ফুল সাদা হতে গোলাপী বর্ণের হয় । পাঁচটি  পাপড়ি থাকে । বেগুনের ফল বেগুনি বা সাদা বর্ণের হয় । ফল অনেকটা লম্বাটে নলাকৃতির হয়ে থাকে । ফলের ভিতরে অনেকগুলো নরম বিচি থাকে ।

ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন রান্নায় বেগুনের ফল ব্যবহার করা হয় । বেগুন ভর্তা , বেগুন পোড়া , এবং বেগুনি বানাতে এর ব্যবহার রয়েছে । বিশেষত বাংলাদেশে ইফতারের জন্য বেগুনী একটি জনপ্রিয় খাবার ।

লাউ

ppp

লাউ ( ইংরেজি: bottle gourd) ( বৈজ্ঞানিক নাম:: Lagenaria siceraria) শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম। লাউ এক প্রকার লতানো উদ্ভিদ যা এর ফলের জন্যে চাষ করা হয়, যা কিনা কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে খাওয়া হয়, আর পরিপক্ব অবস্থায় শুকিয়ে এটি বোতল, পাত্র বা নল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ কারণেই লাউ এর ইংরেজি নাম হয়েছে Bottle gourd। কচি লাউয়ের রং হালকা সবুজ, ভেতরে সাদা রংয়ের শাঁস। লাউকে আঞ্চলিক ভাষায় কদু বলা হয়।

লাউ পৃথিবীর অন্যতম পুরনো চাষ হওয়া সবজি অতি পরিচিত লাউয়ের জন্ম কিন্তু আফ্রিকায়। আমাদের দেশে লাউকে আঞ্চলিক ভাষায় কদু বলা হয়। কচি লাউয়ের রং হালকা সবুজ, ভেতরে সাদা রঙের শাঁস। এটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। শুধু লাউ নয়, লাউয়ের বাকল, লতা, এমনকি পাতাও খাওয়া যায়।

ঝিংগা

untitled(4)

ঝিংগা ( ইংরেজি: Luffa), ভিয়েতনামী ঝিংগা, ভিয়েতনামী লাউ, বা চীনা অক্রা একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয়বর্গ এবং উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় লতাজাতীয় উদ্ভিদ যা একটি  গ্রীষ্মমণ্ডলীয়বর্গ এবং উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় লতাজাতীয় উদ্ভিদ যা শসা সা কিউকুয়াবিটাশা পরিবারে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে ।

দৈনন্দিন একে লূফা হিসেবে বানান করা হয়, সাধারণত দুই প্রজাতির ফল luffa aegyptiaca এবং luffa acutangula -কে বোঝানো হয়। এই প্রজাতির ফলের চাষ করা হয় এবং একে সবজি হিসাবে খাওয়া হয়। এই ফলকে খাবারের জন্য অল্প বয়স্ক অবস্থায় সংগ্রহ করা হয়। এই সবজি চীন ও  ভিয়েতনামের অতি জনপ্রিয়। এই ফল যখন সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ বয়সে পৌছায় তখন এটা খুব আঁশাল হয়ে যায়। বর্ষজীবি, ফেব্রুয়ারি-মে তে পাওয়া যায়। ৬”-১৮” দৈর্ঘ হতে পারে।

১৮শ-শতাব্দীতে ইউরোপীয় উদ্ভিদবিজ্ঞানী মিশরীয় আরবি নাম لوف লুফ থেকে এর ইংরেজী নামকরণ করা হয়।

পটল

untitled(5)

পটল (ইংরেজি: pointed gourd, parwal/parval হিন্দি থেকে) এক ধরণের সবজি। এটি ভারতের  পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ করে উড়িষ্যা, পশ্চিবঙ্গ, আসাম, বিহার , উত্তর প্রদেশ এবং বাংলাদেশে ভাল জন্মে । এতে   প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ভিটামিন এ ও সি আছে। এছাড়া এতে স্বল্প পরিমাণে ম্যাগ্নেসিয়াম, তামা, প্টাসিয়াম, গন্ধক ও ক্লোরিন আছে।

পটল কিছুটা শসা ও ক্ষীরা  গোত্রের উদ্ভিদ। এটি খেতেও উপাদেয়। পটল স্যুপ, তরকারী, ভাজী এমনকী মিষ্টান্ন প্রস্তুতিতেও ব্যবহৃত হয়।

পটলের উৎপাদনমাত্রা ভালো। ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ফসল পাওয়া যায়। ৩ থেকে ৪ দিন পরপর পটল তোলা যায়। তরকারী হিসেবে পটলের বেশ চাহিদা আছে। পটলের শ্রমিক খরচ কম, নিজেরাই সবকিছু করা যায়। পটল লম্বায় ৫-১৫ সেমি লম্বা হয়ে থাকে। স্বল্পোষ্ণ ও আদ্র আবহাওয়ায় ভাল জন্মে।

সিম

untitled(3)

সিম বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শীতকালীন সবজি। এর ইংরেজি নাম Bean ও বৈজ্ঞানিক নাম Lablab purpurcus. বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কম বেশি সিম চাষ করা হয়। সিম হচ্ছে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর সবজি। সিমে শর্করা, প্রোটিন এবং ভিটামিন বি ও সি আছে। ছোট বড় সবাই এই সবজি খেতে পছন্দ করে। সিম ভাজি, ভর্তা ও তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়। আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস (মধ্য জুন থেকে মধ্য সেপ্টেম্বর) সিমের বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।

মিষ্টি কুমড়া

untitled(4)

মিষ্টি কুমড়া একটি খরিফ মৌসুমের সবজি তবে রবি মৌসুমেও ব্যাপক ভাবে চাষ হয়ে থাকে। কাঁচা বা পাকা কুমড়া এবং এদের কচি ডগা ও পাতা রান্না করে সবজি হিসাবে খাওয়া যায়। পাকা মিষ্টি কুমড়া ভিটামিন এ সমৃদ্ধ সবজী। কাচা মিষ্টি কুমড়ার ডগাতেও প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ ও খনিজ পদার্থ রয়েছে।

বরবটি

untitled(6)

বরবটি বাংলাদেশের একটি পুষ্টিকর সবজি। এতে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। তাছাড়া বরবটিতে যথেষ্ট পরিমাণে শর্করা, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন আছে। সুস্বাস্থ্যের জন্য এসব পুষ্টি উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কাকরোল

untitled(7)

কাকরোল হল এক ধরণের ছোট সব্জী, যা সাধারণত গ্রীষ্মকালে ফলে। কাকরোল সম্ভবত ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে জন্মায় না। কাকরোলের বীজ কাকরোল গাছের নীচে হয়ে থাকে যা দেখতে মিষ্টি আলুর মত। কাকরোল একটি জনপ্রিয় সবজি ৷ এটি পুষ্টিকরও বটে ৷ এতে ক্যালসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস, ক্যারোটিন, আমিষ, ভিটামিন-বি, শ্বেতসার ও খনিজ পদার্থ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে৷ বাংলাদেশে কুমড়া পরিবারের যতো সবজি আছে তার মধ্যে কাঁকরোলের বাজার দর ও চাহিদা বাজারে অনেক বেশি ৷

বিভিন্ন মাটিতে মার্চ ও এপ্রিলে এ সব্জীর চাষ করা যায়। বাংলাদেশে বিভিন্ন এলাকায় কাকরোলের অনেক জাত দেখতে পাওয়া যায়৷ ফলের আকার, আকৃতি ও বর্ণ এবং নরম কাটার বৈশিষ্ট্য দ্বারা বিভিন্ন সনাক্ত করা যায়৷ ৯০-১০০ দিনের মধ্যেই এর ফলন পাওয়া সম্ভব।ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কুমিল্লা এর অন্যতম প্রধান উৎপাদন এলাকা ৷ ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকার কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কিছু জাত সংগ্রহ করে সেগুলোর চাষ শুরু করেছেন এবং বিভিন্ন জাত সংগ্রহ করার জন্য নিজেরাই মনিপুরী, আলমী, সবুজ টেম্পু, হলুদ টেম্পু, বর্ণ টেম্পু, মেরাশানী ও অন্যান্য নাম  দিয়েছেন৷বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাকরোল মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়৷

ফুলকপি

untitled(8)

ফুলকপি ব্রাসিকেসি  পরিবারভুক্ত ব্রাসিকা অলেরাসিয়া ( en:Brassica oleracea) প্রজাতির সবজিগুলোর একটি। এটি একটি বার্ষিক ফসল যা বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। সাধারণতঃ ফুলকপির ফুল অর্থাৎ সাদা অংশটুকুই খাওয়া হয় আর সাদা অংশের চারপাশে ঘিরে থাকা ডাঁট এবং পুরু, সবুজ পাতা দিয়ে স্যুপ  রান্না করা হয় অথবা ফেলে দেওয়া হয়। ফুলকপি খুবই পুষ্টিকর একটি সবজি; এটি রান্না বা কাঁচা যে কোন প্রকারে খাওয়া যায়, আবার এটি দিয়ে আচারও তৈরি করা যায়।

পাতা দিয়ে ঘিরে থাকা সাদা অংশটুকু দেখতে ফুলের মতো বলেই ফুলকপির এমন নামকরণ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ব্রাসিকা অলিরাসিয়া (en:Brassica oleracea), যার মধ্যে বাধাকপি, ব্রকলি ইত্যাদিও পড়ে, অবশ্য এরা ভিন্ন চাষ গোএভুক্ত ।

লাল শাক

untitled(2)

লাল শাক এক প্রকারের সবজি, যার পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এই শাক আগে শুধুমাত্র শীতকালে পাওয়া গেলেও বর্তমানে এটি সারাবছরই পাওয়া যায়। এর রং লাল এবং রান্নার পর এটি থেকে লাল রং বের হতে দেখা যায়। এই সবজি ৬”-১২” হয়। গাছের কান্ড থেকে ভেঙে নিয়ে আসার পর ভাঙা কান্ড হতে পুনরায় নতুন গাছ গজায়।

পালং শাক

untitled(3)

পালং শাক (Spinacia oleracea) এমারান্থাসি পরিবারভুক্ত এক প্রকার সপুষ্পক উদ্ভিদ। এটি জনপ্রিয় শাক ও সবজি। এর আদিবাস মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া। এটি একবর্ষজীবি উদ্ভিদ, তবে দ্বিবর্ষজীবি পালং গাছ হতে পারে যদিও বিরল। পালং গাছ ৩০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়। বাংলাদেশে শীতকালে এর চাষ হয়। এর পাতা একান্তর, সরল, ডিম্বাকার বা ত্রিভূজাকার। এই পাতার আকার ২-৩০ সেমি লম্বা ও ১-১৫ সেমি চওড়া হতে পারে। গাছের গোড়ার দিকের পাতাগুলো বড় বড় এবং উপরের দিকের পাতাগুলো ছোট হয়। এর ফুল হলদেটে সাদা, ৩-৪ মিমি ব্যাসবিশিষ্ট হয়। এর ফল ছোট, শক্ত, দানাকৃতির ও গুচ্ছাকার। ফলের আকার আড়াআড়ি ৫-১০ মিমি; এতে বেশ কয়েকটি বীজ থাকে।

কলমি শাক

untitled(9)

কলমি শাক (Ipomoea aquatica) এক প্রকারের অর্ধ-জলজ উষ্ণমণ্ডলীয় লতা। একে শাক হিসাবে খাওয়া হয়। এর আদি নিবাস কোথায় তা জানা যায়নি, তবে সারা বিশ্বের ক্রান্তীয় ও উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে এটি জন্মে। ইংরেজিতে একে বলে water spinach, river spinach, water morning glory, water convolvulus, Chinese spinach, Swamp cabbage এবং এশিয়ার কিছু অঞ্চলে Kangkong ।

কলমি শাক পানিতে কিংবা ভেজা মাটিতে জন্মে থাকে। এর ডাঁটাগুলো ২-৩ মিটার বা আরো বেশি দীর্ঘ হয়। ডাঁটার গিঁট বা পর্ব থেকে শেকড় বের হয়। এটি ফাঁপা বলে পানির উপরে ভেসে থাকতে পারে। কলমি শাকের পাতা অনেকটা লম্বাটে ত্রিকোণাকার বা বল্লমাকার, এবং ৫-১৫ সেমি দীর্ঘ এবং ২-৮ সেমি চওড়া হয়। কলমির ফুল অনেকটা ট্রাম্পেট আকৃতির এবং ৩-৫ সেমি চওড়া হয়ে থাকে। ফুলের রঙ সাধারণত সাদা এবং গোড়ার দিক বেগুনি। ফুলে বীজ হয়, বীজ থেকেও গাছ লাগানো যায়।

Likes(6)Dislikes(0)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন