মাছ

মাছ শীতল রক্ত বিশিষ্ট জলজ মেরুদন্ডী প্রাণীগোষ্ঠী যারা জোড়-বিজোড় পাখনার সাহয্যে সাঁতার কাটে এবং ফুলকার সাহায্য শ্বাস-প্রশ্বাস চালায়। সাধারণত দেহের বহির্ভাগ আঁশ দ্বারা আচ্ছাদিত তবে আঁশ নেই এমন মাছের সংখ্যা একেবারে কম নয়। এরা সমুদ্রের লোনা পানি এবং স্বাদু পানির খাল, বিল, হাওর,  বাওর, নদী, হ্রদ, পুকুর, ডোবায় বাস করে। পাহাড়ী ঝর্ণা থেকে শুরু করে মহাসাগরের গহীন অতল স্থানে অর্থাৎ যেখানেই পানি রয়েছে সেখানেই মাছের অস্তিত্ব দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র মাছ মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মাছ মানবদেহে অন্যতম আমিষ যোগানদাতা। অনেক স্থানেই মাছ চাষ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও বিনোদন হিসাবে ছিপ/বড়শি দিয়ে মাছ ধরা আবার মাছকে অ্যাকুয়ারিয়ামে প্রদর্শন করা হয়ে থাকে। কয়েকটি প্রাণী মাছ না হলেও এগুলো মাছ হিসাবে ট্রচলিত।

ইলিশ

untitled

ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম:Tenualosa ilisha) বাংলাদেশ এর জাতীয় মাছ । বাঙ্গালিদের কাছে ইলিশ খুব জনপ্রিয়। এটি একটি সামূদ্রিক মাছ, যা ডিম পাড়ার জন্য বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের নদীতে প্রবেশ করে। এ ছাড়াও ইলিশ খাদ্য হিসেবে ভারতের  বিভিন্ন এলাকা যেমন, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, এিপুরা,আসামেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাছ। বাংলা ভাষা, ভারতের আসাম এর ভাষায়  ইলিশ শব্দ টি পাওয়া যায় এবং তেলেগু ভাষায় ইলিশকে বলা হয় পোলাসা (তেলেগু: పులస Pulasa or Polasa), ও পাকিস্তানের সিন্ধ ভাষায় বলা হয় (Sindhi: پلو مڇي Pallu Machhi), ওড়িয়া ভাষায় (ওড়িয়া: ଇଲିଶି Ilishii) গুজরাটে ইলিশ মাছ মোদেন (স্ত্রী) বা পালভা (পুরুষ) নামে পরিচিত। ইলিশ অর্থনৈতিক ভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ গ্রীষ্মমন্ডলীয় মাছ। বঙ্গোপসাগরের ব-দ্বীপাঞ্চল, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নদীর মোহনার হা্ওরে থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমানে ইলিশ মাছ ধরা হয়। এটি সামুদ্রিক মাছ  কিন্তু এই মাছ বড় নদীতে ডিম দেয়। ডিম ফুটে গেলে ও বাচ্চা বড় হলে (যাকে বাংলায় বলে জাটকা) ইলিশ মাছ সাগরে ফিরে যায়। সাগরে ফিরে যাবার পথে জেলেরা এই মাছ ধরে। এই মাছের অনেক ছোট ছোট কাটা রয়েছে তাই খুব সাবধানে খেতে হয়।

যদিও ইলিশ লবনাক্ত পানির মাছ বা সামুদ্রিক মাছ, বেশিরভাগ সময় সে সাগরে থাকে কিন্তু বংশবিস্তারের জন্য প্রায় ১২০০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করে ভারতীয় উপমহাদেশে নদীতে পারি জমায়।বাংলাদেশে নদীর  সাধারণ দূরত্ব ৫০ কিম থেকে ১০০ কিমি। ইলিশ প্রধানত বাংলাদেশের পদ্মা (গঙ্গার কিছু অংশ), মেঘনা (ব্রক্ষপুএের কিছু অংশ) এবংগোদাবরী নদীতে  প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। এর মাঝে পদ্মার ইলিশের স্বাদ সবচেয়ে ভালো বলে ধরা হয়। ভারতের রূপনারায়ন নদী , গঙ্গ, গোদবরী নদীর  ইলিশ তাদের সুস্বাদু ডিমের জন্য বিখ্যাত। ইলিশ মাছ সাগর থেকেও ধরা হয় কিন্তু সাগরের ইলিশ নদীর মাছের মত সুস্বাদু হয় না। দক্ষিণ পাকিস্তানের সন্ধু প্রদেশেও এই মাছ পাওয়া যায়। সেখানে মাছটি পাল্লা নামে পরিচিত। এই মাছ খুব অল্প পরিমানে থাট্টা জেলায় ও পাওয়া যায়। বর্তমানে সিন্ধু নদীর পানি নীচে নেমে যাবার কারনে পাল্লা বা ইলিশ আর দেখা যায় না ।

 শিং

untitled(2)

শিং মাছ একটি মাঝারী আকারের মাছ। দেহ আঁশ বিহীন। মুখে গোঁফ আছে।বৈজ্ঞানিক নাম Heteropneustes fossilis । মাছটিকে Stinging catfish ইংরেজিতে বলে। এটি Heteropneustidae পরিবার (family) এর অন্তর্গত। এটি বাংলাদেশ এর স্থানীয় (Native) মাছ।

মাগুর

untitled(3)

মাগুর একধরণের মিঠা পানির মাছ।মাগুর বাংলাদেশের বহুল প্রচলিত মাছগুলোর মধ্যে একটি যার মূল প্রাপ্তিস্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া । এর স্থানীয় নাম মজগুর, মচকুর বা মাগুর। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ওয়াকিং ক্যাটফিস নামে পরিচিত। এই নামের কারণ হলো এটি শুষ্ক মাটির উপর দিয়ে প্রতিকূল পরিবেশ বা খাদ্য সংগ্রহের জন্য হেঁটে যেতে পারে। এই বিশেষ হাঁটার জন্য মাগুর মাছের বুকের কাছে পাখনা থাকে যা ব্যবহার করে এটি সাপের মত চলাচল করতে পারে। এই মাছের অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র আছে যার মাধ্যমে এটি বাতাস থেকে শ্বাস নিতে পারে।মাগুর মাছ সাধারণত ৩০ সে.মি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৪৭ সে.মি হতে পারে। মাছের গায়ে কোন আঁশ থাকেনা। এরা অস্থিময়, মাথা অবনত এবং দুটি খাঁজ বিদ্যমান৷ পিঠের পাখনা লম্বা এবং চার জোড়া শুড় আছে৷ মাথা চ্যাপ্টা, মুখ প্রশস্ত, গায়ের রং লালচে বাদামী বা ধূসর কালো রংয়ের। কোন কোন ক্ষেত্রে পরিপক্ক স্ত্রী মাছের গায়ের রং ধূসর এবং পুরুষ মাছগুলির গায়ে হালকা বলয় থাকে। স্ত্রী মাছে কোন বলয় থাকে না। মাছের পৃষ্টদেশে ও পায়ুতে বড় বড় পাখনা থাকে।এই মাছ সর্বোচ্চ ১.১ঌ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

খলসে

download (3)

খলিসা, ‘খলসে’ বা ‘খোলসে’ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্থানীয় মাছ। বাংলাদেশে খলিসা মাছের যতগুলো প্রজাতি পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ১. বৈচা, রাঙ্গা বা লাল খলিসা, বামন। ইংরেজি নাম Dwarf Gourami আর বৈজ্ঞানিক নাম Trichogaster lalius (সাবেক Colisa lalia) ২. খলিসা। ইংরেজি নাম Giant gourami আর বৈজ্ঞানিক নাম Colisa fasciatus ৩. চুনা খলিসা, মধু খলিসা। ইংরেজি নাম Honey gourami আর বৈজ্ঞানিক নাম Trichogaster chuna

এর আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়া (বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং ভারত) হলেও এখন দুনিয়ার নানা জায়গায় এটি বিস্তার লাভ করেছে। এই মাছ অল্প স্রোত বিশিষ্ট পানিতে, যেমন- বিল, পুকুর, খাল, ডোবা এবং বদ্ধ জলাশয়ে পওয়া যায়। দেহ ডিম্বাকৃতি, ফুলকার নিচে বেশ চাপা। মুখ ছোট এবং ঊর্ধ্বাভিমুখী। ঘাড়ের উপর সামান্য খাঁজ থাকে। পূর্ণ বয়স্ক মাছ চার থেকে পাঁচ সেমি আকারের হয়; তবে এটি ৮.৮ সেমি পর্যন্ত হতে পারে।

শোল

untitled(4)

শোল চান্নিডে গোত্রের একটি মাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম চান্না স্ট্রিয়াটা। শোল মাছের মাথা দেখতে সাপের মত। এর আরো দুটি দ্বিপদী নাম আছে (Ophiocephalus striatusBloch এবং Ophiocephalus vagus Peters. )। শোল মাছ ১ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। চীন, পাকিস্তান, ভারতের  অধিকাংশ জায়গা, দক্ষিণ নেপাল, বাংলাদেশ এবং দক্ষীণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শোল পাওয়া যায়। পূর্ণাঙ্গ শোল দেখতে ঘন বাদামি রং এর হয়, সারা গায়ে কালো ডোরা থাকে।

বোয়াল

untitled(5)

বোয়াল সিলুরিডে গোত্রের অন্তর্গত একটি ক্যাটফিশ। বোয়াল মাছ বড় নদী, হ্রদ, পুকুরে পাওয়া যায়। এটি দৈর্ঘ্যে ২.৪ মি (৮ ফুট) পর্যন্ত হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে (পাকিস্তান থেকে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া এমনকি আফগানিস্তানেও) বোয়ালের দেখা মেলে। মালয়েশিয়ায় একে ইকান তাপাহ নামে ডাকা হয়, যা কিনা মালয়েশিয়ার তাপাহ শহরের নাম থেকে এসেছে। বোয়ালের ইংরেজি নাম ওয়ালাগো। এটি ওয়ালাগোনা আটু নামেও পরিচিত।

আইড় 

download (4)

আইড় মাছ বা “আড় মাছ” একটি স্বাদু পানির মাছ যা সচরাচর ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমার, চীন, প্রভৃতি দেশের নদ-নদী, খাল-বিলে সুলভ। এর বৈজ্ঞানকি নাম স্পেরাটা আওর (ইংরেজিঃ Sperata aor)।

রুই

images(2)

রুই বাংলাদেশের বহুল পরিচিত মাছগুলোর মধ্যে একটি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Labeo rohita (লাবেও রোহিতা)। মাছের দেহ অনেকটা মাকুর  মতো। মাথা ও লেজ ক্রমশ সরু। প্রস্থ থেকে উচ্চতা বেশি। চলনের সময় পানির ভেতর গতি বাধাপ্রাপ্ত হয় না বলে এ ধরনের আকৃতিকে স্ট্রিমলাইনড বলে।শরীরের দুপাশ সমানভাবে চ্যাপ্টা এবং সারা শরীর রূপালী আঁশ দিয়ে আবৃত থাকে। আঁশগুলো মসৃণ ও সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো থাকে। ধুসর বর্ণের পাখনার এই মাছের পৃষ্ঠদেশের আঁশের কেন্দ্র লালাভ এবং প্রান্ত কালো বর্ণের হয়ে থাকে। আঁশের কেন্দ্রের এই লালাভ বর্ণ প্রজনন ঋতুতে আরও গাঢ় ও উজ্জ্বল হয়। এছাড়াও অধিক জলজ উদ্ভিদময় পরিবেশে বেড়ে ওঠা মাছের পৃষ্ঠদেশের বর্ণ সবুজ-লালাভ হতে পারে। এদের পিঠ ও পিঠের নিচের দিকটা বাদামী রঙের এবং পেট রুপালী সাদা রঙের হয়৷ মুখ নিচের দিকে নামানো থাকে এবং পুরু ঠোট ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে৷ মুখের উপরে ঠোঁটে এক জোড়া গোঁফ থাকে।

রুই মাছ সর্বোচ্চ ২০০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।এরা সবোর্চ্চ ১০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে এবং ওজন ৪৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।আন্তর্জাতিকভাবে রুই মাছের নাম বলা হয়ে থাকে রোহু।স্থানীয় নাম রুই, রোহিতা, রুহিত, রাউ, নলা, গরমা, নওসি।

কাতলা

untitled(6)

কাতল বাংলাদেশ এর খুব জনপ্রিয় একটি মাছ। একে কাতলা মাছও বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Catla catla। মাছটি কে ইংরেজিতে Catla বলে। এটি Cyprinidae পরিবার (family) (Carp/কার্প শ্রেণী)এর অন্তর্গত। এটি বাংলাদেশ এর স্থানীয় (Native) মাছ। এই মাছের মাথা বেশ বড়।

কৈ

untitled(7)

কই পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুব সুস্বাদু মাছগুলোর মাঝে একটি। বর্তমানে এটি খুব দামী মাছও বটে।বৈজ্ঞানিক নাম Anabas testudineus। মাছটিকে ইংরেজিতে Climbing perch বলে। এটি Anabantidae পরিবারের অন্তর্গত। এটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের স্থানীয় মাছ।এটি মিষ্টি জলের মাছ। সাধারণত নদী, খাল এবং বিলে পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে পুকুরেও চাষ করা যায়।

টাকি

untitled(8)

টাকি বেশ জনপ্রিয় মাছ। এর মাথা অনেকটা সাপ এর মতো। দেহ লম্বাটে এবং আঁশযুক্ত। দেহের উপর কিছু ছিট ছিট ফোটা আছে।বৈজ্ঞানিক নাম Channa punctata । মাছটি কে ইংরেজিতে Spotted snakehead বলে। এটি Channidae পরিবার (family) এর অন্তর্গত। এটি বাংলাদেশ এর স্থানীয় (Native) মাছ।দেহ লম্বা এবং গোলাকার। সাধারন দৈর্ঘ্য ১৩ সেমি। এবং সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ৩২.৫ সেমি। মাথা তুলনা মূলাকভাবে বড়।এটি মিঠা পানির মাছ। সাধারণত নদী, খাল, বিল, পুকুর, এমনকি ডোবা নালা তেও পাওয়া যায়। তবে পুকুর এ ও সহজেই চাষ করা যায়।

টেংরা

untitled(9)

টেংরা ছোট একটি মাছ। দেহ প্রায় গোলাকার। গোফ আছে। দেহে আশ নেই তবে পিচ্চিল।বৈজ্ঞানিক নাম Batasio tengana। মাছটি কে ইংরেজি নাম জানা জায় না। এটি Bagridae পরিবার (family) এর অন্তর্গত। এটি বাংলাদেশ এর স্থানীয় (Native) মাছ।এটি মিঠা পানির মাছ। সাধারণত নদী, খাল এবং বিল এ পাওয়া যায়। তবে পুকুর এ ও চাষ করা সম্ভব।

তেলাপিয়া

images(3)

তেলাপিয়া একটি মাঝারী আকারের মাছ। দেহ চ্যাপ্টা।মাছটি ডিম পাড়ার পর নিজের মুখে রেখে দেয় বাচ্চা ফোটাবার জন্য। শরীর আশযুক্ত।বৈজ্ঞানিক নাম Oreochromis mossambicus । মাছটি কে ইংরেজিতে Mozambique tilapia বলে। এটি Cichlidae পরিবার (family) এর অন্তর্গত। এই পরিবার এর মাছেরা সাধারণত ডিম পেড়ে মুখে রেখে বাচ্চা ফোটায়। এটি বাংলাদেশ এ আফ্রিকা থেকে আমদানী করা হয়েছে।এটি মিঠা পানির মাছ। সাধারণত খাল এবং বিল এ পাওয়া যায়। তবে পুকুর এ ও সহজেই চাষ করা যায়।

মলা

untitled(10)

মলা একটি ছোট মাছ। দেহ দুই পাশ থেকে চ্যাপ্টা এবং লম্বা। এর লেজ দুইবিভক্ত।Cypriniiformes বর্গের Cyprinidae। যার ইংরেজি নাম Amblypharyngodon mola। এটি বাংলাদেশের স্থানীয় মাছ।এটি একটি মিঠা পানির মাছ ।   এটি বেশিরভাগ পুকুর, ডোবা বা বদ্ধ জলাশয়ে পাওয়া যায়।

বাইম 

images(4)

সাপের মতো দীর্ঘাকার ও প্রায় নলাকার এবং আঁইশবিহীন এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mastacembelus armatus এবং ইংরেজি নাম Tire-track spiny eel এবং Fish Base নাম Zig-zag eel আর বাংলা নাম বাইম, মাব ও সল বাইম। পৃষ্ঠদেশ বাদামী, যার মধ্যে কালো বর্ণের আঁকাবাঁকা দাগ (ব্যান্ড) দেখতে পাওয়া যায়। অঙ্কীয়ভাগ হলুদাভাব বাদামী। মুখ ছোট আর উভয় চোয়ালে তীক্ষ্ণ দাঁত দেখতে পাওয়া যায়।

পৃষ্ঠপাখনার প্রথম ৩২-৪০টি পাখনারশ্মি কাঁটায় রুপান্তরিত হয়েছে যা মাথার পর থেকে শুরু করে দেহের অর্ধেকেরও পর পর্যন্ত বিস্তৃত। অবশিষ্ট পাখারশ্মির গোড়ায় এক সারি কালো বৃত্তাকার দাগ দেখতে পাওয়া যায়। বক্ষ ও পুচ্ছ পাখনায় যথাক্রমে ২১-২৭ ও ১৪-১৭টি পাখনারশ্মি বর্তমান। পায়ুপাখনার প্রথম তিনটি পাখনারশ্মি কাঁটায় রুপান্তরিত হয়েছে অবশিষ্ট পাখনারশ্মির সংখ্যা ৬৪-৯০টি। শ্রোণী পাখনা অনুপস্থিত। পৃষ্ঠ ও পায়ু পাখনা পুচ্ছপাখনার সাথে সংযুক্ত।

বাতাসি

mahalderblog_1229233061_1-Batashi

বাতাসি মাছ অঞ্চলভেদে বাতাই কিংবা আলুনি নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Pseudeutropius atherinoides। Schilbeidae পরিবার ও Siluriformes বর্গের অন্তর্ভূক্ত এ মাছটি দৈর্ঘ্যে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। দেহ চ্যাপ্টা, ঘাড়ের নিকট স্বচ্ছ গোলাকার অংশ থাকে। মাছটি স্বাদু পানির হলেও হালকা লবনাক্ত পানিতে কিংবা জোঁয়ার- ভাটাযুক্ত নদীতেও দেখা যায়। এ মাছটিকে বর্তমানে বাজারে খুব কমই দেখা যায়। এই মাছটিকে একুরিয়ামে ব্যবহার করা যায়। মাছটির নাম বর্তমানে বাংলাদেশের সংকটাপন্ন মাছের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে।

বউ বা রানী মাছ

untitled(11)

চলন বিলে বউ বা রানী মাছের দুটি প্রজাতি পাওয়া যায়, যারা দেখতে অনেকটা একই ধরণের হলেও দেহের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এদেরকে পৃথক করা যায় । এই দুটি প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম  । চলন বিল সংলগ্ন এলাকায় মাছ দুটি বউ মাছ বা রানী মাছ নামে পরিচিত হলেও দেশের অন্যান্য অনেক স্থানে এটি বেটি , পুতুল , বেতাঙ্গী ইত্যাদি নামে পরিচিত । বউ মাছ দেখতে অত্যন্ত আকর্ষনীয় এবং চ্যাপ্টা ও লম্বাটে দেহবিশিষ্ট । উভয় মাছেরই মুখ আকারে ছোট এবং ৪ জোড়া ক্ষুদ্রাকৃতির স্পর্শী থাকে ।

পাবদা 

download

পাবদা বা পাবদা মাছ (Ompok pabda) এশিয়া উপ মহাদেশের অমপক গনের বিভিন্ন প্রজাতির মাছেদের বোঝায়। বিভিন্ন প্রজাতির মধ্য পড়ে Silurus pabda, Callichrous pabda, Wallago pabda

ফলি মাছ

download (1)

ফলি মাছ ( Notopterus notopterus) Notopteridae গোত্রের সদস্য যা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি এর গোত্রের একমাত্র সদস্য। যদিও এই মাছ স্বাদু পানির মাছ তবে Brackish water অর্থাৎ স্বাদু পানি থেকে বেশি কিন্তু লোনা পানি থেকে কম লবণাক্ত পানিতে এরা বিচরণ করে বলে জানা গেছে। বর্তমানে প্রজাতিটি এর গণের একমাত্র সদস্য হলেও বর্তমানে একে species complex হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

কাকিলা

220px-Xenentodon_cancila_(Wroclaw_zoo)-1

 কাকিলা বা ‘কাখলে’ একটি বিলুপ্তপ্রায় মাছ। এর দেহ সরু, ঠোট লম্বাটে এবং ধারালো দাঁতযুক্ত। বাংলাদেশ এ যে জাতটি পাওয়া যায় সেটি মিঠা পানির জাত। এগুলি লম্বায় ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড ও ভারতেও এই মাছ পাওয়া যায়। তবে রং ও আকারে কিছু পার্থক্য থাকে।

বৈজ্ঞানিক নাম Xenentodon cancila। মাছটি কে ইংরেজিতে Freshwater garfish বলে। এটি Belonidae পরিবার (family) এর অন্তর্গত। এটি বাংলাদেশ এর স্থানীয় (Native) মাছ।এটি মিঠা পানির মাছ। সাধারণত নদী, খাল এবং বিল এ পাওয়া যায়। তবে পুকুর এ চাষ করা যায় না।

চিতল 

download (2)

চিতল একটি চ্যাপ্টা দেহের মাছ। বৃহদাকার দেহের তুলনায় মাথা ছোট । বাংলাদেশের খালে বিলে নদীতে এটি সহজলভ্য।বৈজ্ঞানিক নাম Chitala chitala। মাছটি কে ইংরেজিতে Clown knifefish বলে। এটি Notopteridae পরিবার (family) এর অন্তর্গত। এটি বাংলাদেশ এর স্থানীয় (Native) মাছ।এটি মিঠা পানির মাছ। সাধারণত নদী, খাল এবং বিল এ পাওয়া যায়, পুকুরেও চাষ করা যায়।

পাঙ্গাস 

download (5)

ইংরেজী নাম ঃ PUNGAS ,বৈজ্ঞানিক নাম ঃ PANGASIUS PANGASIUS । এদের মাথা কিছুটা চ্যাপ্টা , উপরিভাগ অমসৃণ । উপরের চোয়াল অপেক্ষাকৃত লম্বা। চোখ মাথার নিচের দিকে। মোট দৈঘ্য মাথার দৈর্ঘ্যের ৫.৫-৬ গুন এবং দেহের উচ্চতা ৪-৫ গুন। চোখ দুটোর মধ্যবর্তী দূরত্ব থুঁতনি বাদে মাথার দৈর্ঘ্যের সমান। স্পর্শী ২ জোড়া। দণ্ডযুক্ত পিঠের পাখনা শ্রোণী পাখনার সামনে অবস্থিত। বুকের কাঁটা পিঠের কাঁটা অপেক্ষা শক্ত ।  পায়ুপাখনা লম্বা কিন্তু লেজের পাখনা পর্যন্ত পৌঁছায় না।  লেজের পাখনা বিভক্ত। পেট রুপালী, পিঠ এবং পাশের রেখার উপরের দিক উপরের ঈষৎ ধূসর। সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ১.২০ মি.। সাধারনত নদী ও মোহনায় বাস করে। বদ্ধ পানিতে কম দেখা যায়। বাংলাদেশের বড় বড় নদী বিশেষ করে পদ্মা মেঘনা ও উপকুলের নদীর মোহনায় প্রচুর পাওয়া যায়। ওজনে ৩০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। খাদ্য তালিকায় আছে ওফাল,গ্যাসটাপোড,পোকামাকড়, প্ল্যাঙ্কটন ইত্যাদি । পাঙাশের চর্বি হৃদরোগ সহ শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী।

Likes(3)Dislikes(0)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন