ফুল

ফুল হল পরিবর্তিত বিটপ। সপুষ্পক উদ্ভিদের যে রুপান্তরিত অংশ ফল ও বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশবিস্তারে সাহায্য করে তাকে ফুল বলে। কান্ড , শাখা প্রশাখা শীর্ষে অথবা পাতার কক্ষে ফুল জন্মায়। ফুল উদ্ভিদের সবচেয়ে দৃষ্টি নন্দন অংশ। সমস্ত সপুষ্পক উদ্ভিদের ফুল ফোটে ও এরা উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

শাপলা

download (7)

শাপলা (ইংরেজি: Nymphaeaceae) পুষ্প বৃক্ষ পরিবারের এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ। এ পরিবারভূক্ত সকল উদ্ভিদই শাপলা নামে পরিচিত। সাদা শাপলা ফুল বাংলাদেশের জাতীয় ফুল । এই ফুল সাধারণত ভারত উপমহাদেশে দেখা যায়। এই উদ্ভিদ প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। থাইল্যান্ড ও মায়ানমারে এই ফুল পুকুর ও বাগান সাজাতে খুব জনপ্রিয়। সাদা শাপলা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ইয়েমেন, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার প্রভৃতি দেশের পুকুর ও হ্রদে দেখা যায়। এই ফুল পাপুয়া নিউগিনি এবং অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায়ও দেখা যায়। এই ফুল যেমন দেখা যায় চাষের জমিতে, তেমনই হয় বন্য এলাকায়। কাটা ধান ক্ষেতের জমে থাকা অল্প পানিতে এই ফুল ফুটে থাকতে দেখা যায়। বিশ্বে এই উদ্ভিদের প্রায় ৩৫টি প্রজাতি পাওয়া গেছে।

গোলাপ

images

গোলাপ এক প্রকার সুপরিচিত ফুল যা আধুনিক মানুষের কাছে বনজ সৌন্দর্যের প্রতীক। Rosaceae পরিবারের Rosa গোত্রের এক প্রকারের গুল্ম জাতীয় গাছে গোলাপ ফুল ফুটে থাকে। প্রায় ১০০ প্রজাতির বিভিন্ন বর্ণের গোলাপ ফুল রয়েছে। গোলাপ পাঁপড়ির গড়ন ও বিন্যাসে একরূপ নান্দনিকতা রয়েছে যা মানুষকে আকৃষ্ট করে। সুগন্ধী গোলাপের ঘ্রাণও মানুষের প্রিয়। তবে গোলাপের নিজস্ব কোন গন্ধ নেয় । গন্ধ উৎপাদনের কোন ক্ষমতা গোলাপের নেই । গোলাপীবর্ণ ছাড়াও নানা বর্ণের গোলাপ জন্মে থাকে।

গোলাপ গাছের কাণ্ডে কাঁটা থাকে। এর পাতার কিনারাতেও ক্ষুদ্র কাঁটা রয়েছে। গোলাপের আদি নিবাস এশিয়া  মহাদেশে। অল্প কিছু প্রজাতির আদি বাস ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ও উত্তরপশ্চিম আফ্রিকা মহাদেশে। ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাসের জন্য গোলাপ বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।

রক্তজবা

roktojoba

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
(অবিন্যাসিত): Angiosperms
(অবিন্যাসিত): Eudicots
(অবিন্যাসিত): Rosids
বর্গ: Malvales
পরিবার: Malvaceae
গণ: Hibiscus
প্রজাতি: H. rosa-sinensis
বৈজ্ঞানিক নাম: Hibiscus rosa-sinensis.
আমাদের দেশের অনেকেই বাড়ির আঙিনা কিংবা বাসাবাড়ির ছাদের টবে নানা জাতের ফুলগাছ লাগিয়ে থাকে। এসব গাছের মধ্যে জবা একটি। দেশের সর্বত্রই এই ফুলের চাষ হয়। এই ফুলের বাংলা নামরক্তজবা, জবা, জবা কুসুম। অন্যান্য স্থানীয় নামের মধ্যে China Rose, Chinese hibiscus উল্লেখযোগ্য। চিন দেশ এর উত প ত্তিস্থান। গাছ টি ২-৪ মি. উঁচু, কাণ্ড খস খ সে, পাতা মসৃণ ও চকচকে, ফুল ১০-১৫ সে. মি. চওড়া। ফুল এক ক অথবা দ্বৈত। গাছটি কষ্টসহিষ্ণু, অল্প যত্নে জন্মে। শাখা কলম দ্বারা এর বংশ বিস্তার হয়। প্রায় সারা বছরই গাছে ফুল ফোটে। বর্তমানে অনেক ধরনের হাইব্রীড জবার অস্তিত্ব পাওয়া যায় এবং সেগুলোর মধ্যে বর্ণবৈচিত্র প্রচুর। দেখতে সুদৃশ্য হওয়াতে এদেরকে আমরা সাধারণত বাগানে শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসাবে লালন করে থাকি।
জবা ফুল দেখতে খুব সুন্দর হলেও এর ঔষধি গুণ কিন্তু কম নয়। চোখ উঠলে, মাথায় টাক পড়লে কিংবা হাতের তালু থেকে চামড়া ওঠা শুরু হলে জবা ফুল বেটে রস লাগালে দ্রুত নিরাময় হয়। ডায়াবেটিসের রোগী নন, অথচ প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পরপরই ঘন ঘন যাদের মূত্র ত্যাগ করতে হয়, তারা জবা গাছের ছালের রস পানিসহ নিয়মিত কয়েকদিন এক চা চামচ পরিমাণ করে খেলে উপকার পাবেন।

উল্লেখ্য ঝুমকো জবা, লংকা জবাসহ জবার আরো বেশ কিছু প্রজাতি বাংলাদেশে যথেষ্ট জনপ্রিয়।

গাঁদা

Tagetes_erecta,_Burdwan,_West_Bengal,_India_30_01_2013

গাঁদা বা গন্ধা (গন্ধা>গেন্ধা>গেনদা>গাঁদা) একটি সুগন্ধী ফুল যা সর্বত্র সহজে হয়ে থাকে এবং গৃহসজ্জায় ব্যবহৃত হয়। এটি Compositae পরিবারের একটি সদস্য, বৈজ্ঞানিক নাম Tagetes erecta। । গাঁদা ফুল বিভিন্ন জাত ও রঙের দেখা যায়। এই ফুল সাধারণত উজ্জল হলুদ ও কমলা হলুদ হয়ে থাকে। সাধারণত: এটি শীতকালীন ফুল হলেও বর্তমানে এটি গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালেও চাষাবাদ হয়ে থাকে। বাগানের শোভা বর্ধন ছাড়াও বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বন ও গৃহসজ্জায় এর ব্যাপক ব্যবহার ফুলটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

বাংলাদেশে গৃহস্থ বাগানের সাধারণ ফুল গাঁদা। ১৯৯০-এর দশক থেকে গাঁদা বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। যশোরের গদখালী, ঝিকরগাছা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, গাজীপুর জেলার সদর উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী ও পটিয়া, ঢাকা জেলার সাভার এলাকায় অধিক হারে চাষ হয়।

শিউলি 

images (5)

শিউলি ফুল (বৈজ্ঞানিক নাম: Nyctanthes arbor-tristis) হচ্ছে নিক্টান্থেস (Nyctanthes) প্রজাতির একটি ফুল। এটি দক্ষিণ এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব থাইল্যান্ড থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশ, ভারত, উত্তরে নেপাল, ও পূর্বে পাকিস্তান পর্যন্ত এলাকা জুড়ে দেখতে পাওয়া যায়। এটি শেফালী নামেও পরিচিত। এই ফুল পশ্চিমবঙ্গের ও থাইল্যান্ডের কাঞ্চনাবুরি প্রদেশের রাষ্ট্রীয় ফুল। শিউলি গাছ নরম ধূসর ছাল বা বাকল বিশিষ্ট হয় এবং ১০ মিটারের মত লম্বা হয়। গাছের পাতা গুলো ৬-৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও সমান্তরাল প্রান্তের বিপরীতমুখী থাকে। সুগন্ধি জাতীয় এই ফুলে রয়েছে পাঁচ থেকে সাতটি সাদা বৃতি ও মাঝে লালচে-কমলা টিউবের মত বৃন্ত। এর ফল চ্যাপ্টা ও বাদামী হৃদপিণ্ডাকৃতির। ফলের ব্যাস ২ সেন্টিমিটার এবং এটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি ভাগে একটি করে বীজ থাকে। এই ফুল শরৎকালে ফোটে। এর ফুলগুলি রাতে ফোটে এবং সকালে ঝরে যায়।শরৎহেমন্ত কালের শিশির ভেজা সকালে ঝরে থাকা শিউলি অসম্ভব সুন্দর দৃশ্য তৈরি করে।

গন্ধরাজ

220px-Gardenia_jasminoides_cv1

ফুলটার বাংলা নামঃ গন্ধরাজ খুবই পরিচিত একটা ফুল এর অন্যান্য স্থানীয় নামের মধ্যে Gardenia, Cape jasmine,Gandhraj উল্লেখযেআগ্য । এর বৈজ্ঞানিক নামঃ Gardenia jasminoides এটি Rubiaceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ।

সূর্যমুখী

220px-W&Asunflower

সূর্যমুখী একধরণের একবর্ষী ফুলগাছ। সূর্যমুখী গাছ লম্বায় ৩ মিটার (৯.৮ ফু) হয়ে থাকে, ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয়। এই ফুল দেখতে কিছুটা সূর্যের মত এবং সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে বলে এর এরূপ নামকরণ।

এর বীজ হাঁস মুরগির খাদ্যরূপে ও তেলের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তেলের উৎস হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়। সমভুমি এলাকায় শীত ও বসন্তকালে, উঁচু লালমাটি এলাকায় বর্ষাকালে ও সমুদ্রকুলবর্তী এলাকায় শীতকালীন শস্য হিসাবে চাষ করা হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে সূর্যমুখী একটি তেল ফসল হিসেবে বাংলাদেশে আবাদ হচ্ছে। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, নাটোর, পাবনা, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাংগাইল প্রভৃতি জেলাতে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে।

সূর্যমুখীর তেল ঘীয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা বনস্পতি তেল নামে পরিচিত। এই তেল অন্যান্য রান্নার তেল হতে ভাল এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকর। এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত কম। এছাড়া এতে ভিটামিন এ, ডি ও ই রয়েছে।

বকুল

220px-Mimusops_elengi

বকুল (বৈজ্ঞানিক নাম:Mimusops elengi) হচ্ছে মিনাসপ্স্‌ (Minasops) প্রজাতির একটি ফুল। এশিয়াপ্রশান্ত মহাসাগর তীরবর্তী এলাকার ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা,বার্মা, ইন্দো-চীন, থাইল্যান্ড, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ এলাকা জুড়ে এই গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তবে, মালয়েশিয়া, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, নিউ ক্যালিডোনিয়া (ফ্রান্স), ভানুয়াটু, এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়াতে এই গাছ চাষ করা হয়। 

বাংলায় বকুল ফুলের জন্যে পরিচিত এই গাছ। বকুলের অন্যান্য ব্যবহার বাংলায় তেমন নেই। এটি একটি অতি পরিচিত ফুল। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় এর গাছ পাওয়া যায়। বাগানে ছায়া পাওয়ার জন্য সাধারনত বকুল গাছ লাগানো হয়ে থাকে।

এটি মাঝারি আকারের গাছ এবং এর পাতা গুলি হয় ঢেউ খেলানো। ফুল গুলো খুব ছোট হয়। বড় জোড় ১ সেঃ মিঃ। ফুল গুলো দেখতে ছোট ছোট তারার মতো। বকুল ফুলের সুবাসে থাকে মিষ্টি গন্ধ। ফুল শুকিয়ে গেলেও এর সুবাস অনেক দিন পর্যন্ত থাকে।

বকুল ফুল, ফল, পাকা ফল, পাতা, গাছের ছাল, কাণ্ড, কাঠ সব কিছুই কাজে লাগে। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে এর ব্যবহার রয়েছে।

জবা

Hibiscus_15_03_2012

জবা Malvaceae গোত্রের অন্তর্গত একটি চিরসবুজ পুষ্পধারী গুল্ম। এর উৎপত্তি পূর্ব এশিয়াতে।জবা একটি চিরসবুজ গুল্ম যার উচ্চতা ২.৫-৫ মি(৮-১৬ ফিট) ও প্রস্থ ১.৫-৩ মি(৫-১০ ফিট)। এর পাতাগুলি চকচকে ও ফুলগুলি উজ্জ্বল লাল বর্ণের ও ৫টি পাপড়ি যুক্ত। ফুলগুলির ব্যাস ১০ সেমি(৪ ইঞ্চি) এবং গ্রীষ্মকাল ও শরতকালে ফোটে।

কলকে ফুল

download (11)

গাঢ় হলুদ কলকে. ফিকে কমলা কলকে ফুল. কলকে পাতা ও কুঁড়ি. কলকে গাছের কাণ্ড, বাকল সমেত. বাংলায় নাম: কলকে ফুল বা হলদে করবী. বৈজ্ঞানিক নাম: Thevetia peruviana. বিষাক্ত অংশ: বাকল, বীজ, কষ. বিষক্রিয়ার ধরনঃ ফল মারাত্মক অবসাদক, পঙ্গুত্ব আরোপক ও ঘাতক।

ক্যামেলিয়া

240px-Camellia_japonica1

ক্যামেলিয়া (Camellia japonica) – এই ফুলের গাছ ২০ ফুট পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। বর্তমানে এই ফুলের ২০০০- ৩০০০ হাইব্রীড ভ্যারাইটি বিদ্যমান । অন্যান্য স্থানীয় নামের মধ্যে camellia, Japanese Camellia উল্লেখযোগ্য। এটি Theaceae পরিবার ভুক্ত একটি উদ্ভিদ।

আগের দিনে ক্যামেলিয়া ফুলকে দীর্ঘায়ু ও বিশ্বস্ততার প্রতীক মনে করা হতো।

বেলি

Arabian_jasmin,_Tunisia_2010

বেলি বা বেলী (ইংরেজি: Arabian jasmine) এক প্রকারের সুগন্ধী সাদা ফুল। এর (বৈজ্ঞানিক নাম: Jasminum sambac)।

রজনীগন্ধা

images (3)

রজনীগন্ধা একটি মনোরম ও সুগন্ধী ফুল। রঙ ও সুগন্ধীর জন্য রজনীগন্ধা ফুল সবার কাছেই প্রিয়। রাতে এ ফুল সুগন্ধ ছড়ায় বলে একে রজনীগন্ধা বলে। এর ইংরেজি নাম Tube rose ও বৈজ্ঞানিক নাম Polianthes tuberosa. সাধারণত রজনীগন্ধা হচ্ছে বর্ষা মৌসুমের একটি ফুল। আমাদের দেশের  যশোর, সাভার, নরসিংদী প্রভৃতি এলাকায় এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে রজনীগন্ধা ফুল চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

কামিনি

resize_1390110561

এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে এই সাদা শুভ্র সুগন্ধি ফুল জন্মে থাকে। রাতের বেলায় এর মৃদু শুরভি যেন মনকে এক প্রশান্তি দেয়। এটি গুল্ম জাতীয় গাছ। কামিনি গাছের সাদা ছোট ফুলগুলি গাছের কাণ্ডের পাতার নিকটে অনেকটা গুচ্ছাকারে জন্মে। আবার কিছু কিছু ফুল একাকি অবস্থান করে।

কামিনির বৈজ্ঞানিক নাম Murraya exotica . ফুল পুরোপুরিভাবে ফোটার সাথে সাথে এর ছোট সাদা পাপড়িগুলো ঝরে পরে। বর্ষাকালে সাধারণত এর ফুল ফোটে। এই গাছ বাগানে যেমন শোভা বর্ধন করে, তেমনি আমাদের নানা রোগের পাথেয় এই গাছটি। গাছটির বিভিন্ন অংশ দিয়ে তৈরি ওষুধ জ্বর, ডায়রিয়া নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া ব্যাথানাশক হিসেবে এর ভূমিকা ব্যাপক। কোনো ফোলা ব্যাথা যুক্ত স্থানে এর থেকে তৈরি ওষুধের প্রয়োগে ব্যথা কমে যায় অনেকটা। কিউবাতে এটি এ কাজে ব্যাপক প্রচলিত।

এর রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে কওমারিন্স ও অ্যালকানয়েডস। এছাড়া রয়েছে কারবোবেঞ্জল ও ক্যারটিনয়েডস। এর মূল, বীজ ও ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। গাছটির নানা অংশ থেকে লিপিড, কওমারিন্স ও কিছু তেল জাতীয় পদার্থ পৃথক করা হয়েছে। বায়োলজি ল্যাবে নানান পরীক্ষা – নিরীক্ষার কাজে এইসব উপাদান ব্যবহার করা হয়।

কৃষ্ণচূড়া

images (4)

কৃষ্ণচূড়া একটি বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিখ রেজিয়া (Delonix regia)। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি ফাবাসিয়ি (Fabaceae)পরিবারের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ যা গুলমোহর নামেও পরিচিত।

কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জল সবুজ পাতা একে অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। কৃষ্ণচূড়া মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রঝরা বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়। যদিও জঙ্গলে এটি বিলুপ্ত প্রায়, বিভিন্ন বিশ্বের অঞ্চলে এটি জন্মানো সম্ভব হয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধক গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় কম (সর্বোচ্চ ১২ মিটার) হলেও শাকা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চল ব্যাপি ছড়ায়। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ।

হিমচাঁপা

Himchampa_634306256

উদয়পদ্ম বা হিমচাঁপা এর বৈজ্ঞানিক নামঃ Magnolia grandiflora এটি Magnoliaceaeপরিবারে একটি উদ্ভিদ। অন্যান্য নামের মধ্যে Laural magnolia, Magnolia, Southern magnolia উল্লেখযোগ্য।

ছয় থেকে বারোটি পাপড়িতে বিন্যস্ত বৃহৎ সাদা ফুলে কিছুটা লেবুর সুগন্ধ। ঘন সন্নিবেশিত পাপড়িতে হিমচাঁপার প্রথম প্রস্ফুটন অপূর্ব, মনোরম। তাই এর আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে আপনার সতর্ক দৃষ্টি থাকতে হবে গাছের দিকে। সাত-সকালে সদ্য ফোটা উদয়পদ্ম দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাপড়িগুলো ছড়িয়ে পড়ে এবং মলিন হয়ে যায়। হিমচাঁপা চিরসবুজ গাছ। সারা বছরব্যাপী পাতা ঝরে ও নতুন পাতা গজায়। কালচে সবুজ পাতাগুলো বড়-লম্বাটে, বিন্যাসে একক ও আয়তাকার। শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ হিসেবে আমেরিকাসহ ইউরোপ-এশিয়ার নানা দেশে হিমচাঁপা বেশ জনপ্রিয়। আমাদের উদ্যানেও এটি জায়গা করে নিয়েছে। ঢাকায় রমনা পার্ক, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন, শিশু একাডেমির বাগান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় হিমচাঁপার দেখা মেলে।

অগ্নিশিখা

download (8)

উলটচণ্ডাল বা অগ্নিশিখা এক প্রকার Gloriosa গণভুক্ত উদ্ভিদ ও এর ফুল। এর বোটানিক্যাল নাম বা বৈজ্ঞানিক নাম Gloriosa superba। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অগ্নিশিখা নামটির প্রবর্তক। এটি এক ধরনের লতাগাছ, যা পাতার ডগাস্থিত আকর্ষির সাহায্যে বেয়ে ওঠে। ফুলের পাপড়ির গোড়ার দিক হলুদ আর আগার দিক গাঢ় লাল রঙের হয়।

দোলনচাঁপা

download (9)

দোলনচাঁপা এক প্রকার ফুল। দোলন চাঁপা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Hedychium coronarium; এটি Zingiberaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এর অন্যান্য নামের মধ্যে Butterfly Ginger Lily, White Ginger Lily, Dolan champa ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এর আদি নিবাস নেপাল ও ভারতের হিমালয় অঞ্চল। এটি ব্রাজিলে প্রথম নেয়া হয় ক্রীতদাস যুগে; যেখানে ক্রীতদাসগণ এর পাতাকে তোষকের মত ব্যাবহার করতেন। বর্তমানে ব্রাজিলে এর ব্যাপকতা একে রাক্ষুসে আগাছারূপে পরিচিত করেছে । হাওয়াই অঞ্চলেও একে আগাছা গণ্য করা হয়। এটি কিউবার জাতীয় ফুল। স্প্যানিশ উপনিবেশ আমলে নারীরা এই ফুলের মধ্যে গোপন বার্তা লুকিয়ে আদান প্রদান করতেন।

দোলন চাঁপা গাছ আদার মতো রাইজোম বা কন্দ থেকে গজায়। এটি ১ থেকে ২ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতা বল্লমাকৃতির এবং অগ্রভাগ সূঁচালো। পাতার আকার ২০-৬১ সেমি লম্বা এবং ৫-১৩ সেমি চওড়া। গ্রীষ্ম থেকে শরতকাল পর্যন্ত এতে গুচ্ছফুল আসে। ফুলে হালকা মিষ্টি সুবাস আছে। ফুলের গুচ্ছ ১৫-৩০ সেমি লম্বা হয়। প্রতিটি সাদা ফুল দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো; তাই একে ইংরেজিতে butterfly ginger lily বলা হয়। ফুল ঝরে গিয়ে বীজাধার উন্মুক্ত হয়; যাতে উজ্জ্বল লাল রঙের অনেকগুলো বীজ হয়।

কদম

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

কদম দীর্ঘাকৃতি, বহুশাখাবিশিষ্ট বিশাল বৃক্ষ বিশেষ। রূপসী তরুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কদম। কদমের কাণ্ড সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ, কর্কশ। শাখা অজস্র এবং ভূমির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতা হয় বড় বড়, ডিম্বাকৃতি, উজ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। উপপত্রিকা অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী বিধায় পরিণত পাতা অনুপপত্রিক। বোঁটা খুবই ছোট। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন। শীতে কদমের পাতা ঝরে এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়। সাধারণত পরিণত পাতা অপেক্ষা কচি অনেকটা বড়। কদমের কচি পাতার রঙ হালকা সবুজ। কদমের একটি পূর্ণ মঞ্জরিকে সাধারণত একটি ফুল বলেই মনে হয়। তাতে বলের মতো গোল, মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। পূর্ণ প্রস্ফুটিত মঞ্জরির রঙ সাদা-হলুদে মেশানো হলেও হলুদ-সাদার আধিক্যে প্রচ্ছন্ন। প্রতিটি ফুল খুবই ছোট, বৃতি সাদা, দল হলুদ, পরাগচক্র সাদা এবং বহির্মুখীন, গর্ভদণ্ড দীর্ঘ। ফল মাংসল, টক এবং বাদুড় ও কাঠবিড়ালির প্রিয় খাদ্য। ওরাই বীজ ছড়ানোর বাহন। গাছের বৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুত বলে জ্বালানিকাঠের জন্য রোপণ উত্তম। কাঠ খুবই নরম তাই দারুমুল্য নিকৃষ্ট হলেও সাদা, নরম কাঠ বাক্স-পেটরা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার্য। ছাল জ্বরের ঔষধ হিসেবেও উপকারী।

Rubiaceae পরিবারের এই গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Anthocephalus chinensis

রঙ্গন

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

বাংলাদেশের সর্বত্রই দেখা যায় রঙ্গন ফুল। শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে রঙ্গন অতি জনপ্রিয়। আকর্ষণীয় রূপ ও বর্ণের বৈচিত্র্যে রঙ্গন ঐশ্বর্যমণ্ডিত। তরুরাজ্যে প্রায় সারাবছরই সবুজ পাতার ফাঁকে রঙ্গনের প্রস্ফুটন মানুষ প্রাণভরে উপভোগ করে। ঘন চিরসবুজ গুল্ম জাতীয় রঙ্গন উদ্ভিদ তিন থেকে ছয় মিটার পর্যনত্ম উঁচু হয়। মঞ্জুরিপত্র বিশিষ্ট গাঢ় লালবর্ণের পুষ্প-মঞ্জুরিতে থাকে অসংখ্য পুষ্পের সমাবেশ। পর্যায়ক্রমে থোকা থোকা লাল কমলা ফুলের প্রস্ফুটনের প্রাচুর্যে ও সমারোহে এক অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে রঙ্গন। পাতার ঘন বিন্যাস অপূর্ব। পাতা সরল ও প্রতিমুখ বা আবর্ত, কিনারা অখ-, উপপত্র দুটি বৃনত্মের মাঝে অবস্থিত। ফুল নলাকৃতি, তারার মতো চারটি পাপড়ির বিন্যাস সত্যিই মনোমুগ্ধকর। রম্নবিয়েসিগোত্রভুক্ত রঙ্গন শুধু লাল বর্ণেরই হয় না গোলাপি, হলুদ, কমলা ও সাদা বর্ণেরও হয়।

কুরচি ফুল

download (10)

ফুলের নাম- কুরচি, গিরিমল্লিকা

বৈজ্ঞানিক নাম- Holarrhena pubescens(Syn. H. antidysenterica)
পরিবার- Apocynaceae

অন্যান্য নাম- কুটজ, ইন্দ্রযব, ইন্দ্রজৌ, বৎসক, কলিঙ্গ, প্রাবৃষ্য, শত্রুপাদপ, সংগ্রাহী, পান্ডুরদ্রুম, মহাগন্ধ, ইংরেজিতে Bitter Oleander, Easter Tree, Jasmine Tree উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ ও ভারতের প্রজাতি। ৬-৭ মিটার উচু পত্রমোচী গাছ। পাতা বেশ বড়, ১২-২০ সেমি লম্বা, ভল্লাকার বা লম্ব-ডিম্বাকার। বসন্তের শেষে সমস্ত গাছে ছোট ছোট থোকার সাদা ফুলে ভরে ওঠে এবং শরৎ পর্যন্ত কিছু গাছে ফুল দেখা যায়। ২-৪ সেমি চওড়া ফুলের ২-৩ সেমি লম্বা নলের আগায় ৫ পাপড়ি, সুগন্ধি। ফল সজোড়, সরু, ২০-৩৫ সেমি*৫-৬ মিমি। বীজ ১-১.৩ সেমি লম্বা, বাদামি রোমে জড়ানো। বীজ ও শিকড় থেকে গজান চারার মাধ্যমে চাষ।

শ্বেতকাঞ্চন

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae
বিভাগ: Magnoliophyta
শ্রেণী: Magnoliopsida
বর্গ: Fabales
পরিবার: Fabaceae
উপপরিবার: Caesalpinioideae
গোত্র: Cercideae
গণ: Bauhinia
প্রজাতি: B. acuminata
দ্বিপদ নামঃ Bauhinia acuminata
বাংলায় সাদাকাঞ্চন নামে পরিচিত ফুলটির অন্যান্য নামের মধ্যে রয়েছে Dwarf White orchid tree, Dwarf white bauhinia, Safed Kachnar, Chingthrao angouba, Vellai mandaarai, Sivamalli উল্লেখযোগ্য। শোভাবর্ধনকারী এই উদ্ভিদের বসতি ম ধ্যভারত, শ্রীলংকা, মালয় ওচিন। বাংলায়। দেখতে সুদৃশ্য হওয়ায় আমরা এদেরকে শুধু বাগানের শোভাবর্ধনে চাষ করে থাকি। এটি Caesalpinaceae (Gulmohar family) পরিবারের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। এটি ২-৩ মিটার উঁচু প ত্রমোচি গাছ, পাতার দৈর্ঘ্য ১০-১৫ সেমি ও প্রস্থ ৭-১২ সেমি, পাতার আগা দুই ভাগে বিভক্ত ও মসৃণ, নিচের শিরা সামান্য রোমশ। গাছ মোটামুটি ঝোপবিশিষ্ট, ফুল সাদা, মার্চ-অক্টোবর সময়ে গাছ অনবরত ফুল দেয়। বীজ দ্বারা এর বংশবিস্তার হয়, বীজের গাছ এক বছরেই ফুল দেয়।

Bauhinia গণে অনেক প্রজাতি আছে। কিন্তু Bauhinia acuminata প্রজাতিটি ব্যতীত অন্য সবগুলি বৃক্ষ। কোনো কোনোটি আবার লতানো। বাংলাদেশে Bauhinia গণে পাওয়া যায় দেবকাঞ্চন (Bauhinia purpurea) এবং রক্তকাঞ্চন (Bauhinia variegata) নামে দুটি বৃক্ষ।

সন্ধ্যামালতী

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

সন্ধ্যা হতে না হতেই ফুল ফোটে, তাই এর নাম সন্ধ্যামালতী। কিছু কিছু ফুলে রয়েছে সুমিষ্ট গন্ধ, তবে সব ফুলে নেই। ফুলটি দিয়ে গাঁথা যায় বিনা সুতার মালা। এছাড়া পহৃজা-পার্বণে এর বেশ সমাদর আছে। সাধারণত সন্ধ্যার সময় ফুটলেও কখনো কখনো শীতের সকালে ফুল ফুটতে দেখা যায়। ফুল গাছের উচ্চতা ২ থেকে ৩ ফুট ও কাণ্ড নরম হয়। ফুলটির আদি নিবাস আমেরিকা।
ফুল দেখতে অনেকটা ধুতুরা ফুলের মতো। সাদা, লাল, কমলা, হলুদসহ বিভিন্ন বর্ণের ফুল হয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো ফুলে একসঙ্গে দুটি বর্ণ দেখা যেতে পারে। বর্ষাকাল ও শরৎকালে গাছ ফুলে ভরে যায়।
গাছের শিকড় থেকে ডালিয়ার মতো স্ফীত কন্দ জন্মায়। এ কন্দ থেকে পরবর্তী বছর গাছ জন্মানো সম্ভব। বীজ থেকেও চারা জন্মে। একে টবেও চাষ করা যায়। সন্ধ্যামালতী খুব কষ্টসহিষ্ণু। একে অনাবৃত জায়গায় অথবা যেখানে খুব কম রোদ পায় সেখানেও চাষ করা চলে। তবে শুষ্ক পাথুরে মাটিতে এটা জন্মাতে পারে না।

কাঠগোলাপ

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

কাঠগোলাপ; এ নাম ছাড়াও গুলাচ, কাঠচাঁপা, গোলকচাঁপা, গৌরচাঁপা, চালতা গোলাপ
ইত্যাদি নামে একে ডাকা হয়। কাঠগোলাপের প্রজাতি বহু ও বিচিত্র। সুদূর গুয়াতেমালা, মেক্সিকো থেকে এসে এটি ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের উদ্যানে। দেশের নানা প্রান্তেও এর দেখা মেলে। ঢাকায় সুপরিকল্পিত বীথি না থাকলেও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে চোখে পড়ে এর বর্ণিল প্রস্ফুটন। জাতীয় জাদুঘর, বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্রিটিশ কাউন্সিল, শিশু একাডেমীর বাগান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কাঠগোলাপ গাছ দেখা যায়।
শীতে পাতাহীন বৃক্ষ যেন কোনো কুশলী শিল্পীর হাতে গড়া সুনিপুণ ভাস্কর্য।  শীতের পর বসন্তেও পত্র এবং পুষ্পশূন্য কায়ায় এটি ঘুমিয়ে থাকে। চৈত্রের শেষভাগে শুরু হয় নতুন কুঁড়ির জাগরণ। ফুটতে শুরু করে একটি-দুটি করে ফুল। দেখতে দেখতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে গোটা গাছ। আর ফুলের এ বাসর রাঙিয়ে হেসে ওঠে সৌম্য সবুজপাতা। ডালের মাথায় থোকা থোকা ফুল যেন মনোলোভা কোনো পুষ্পস্তবক। বিশেষ করে লাল-গোলাপি রঙের ফুলগুলো সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেখায়। তরুতলে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত পথিক দৃষ্টি জুড়িয়ে নেন একপলক। সঙ্গে মিষ্টি মধুর ঘ্রাণ উদাস-আকুল করে তোলে পথিকের মন। বাসি ফুলগুলো একসময় ঝরে পড়ে। তখন গাছতলায় ঝরা ফুলের সৌন্দর্যও উপভোগ করার মতো।
কাঠগোলাপ গাছ আকারে মাঝারি, উচ্চতা সাধারণত ১২ থেকে ৩০ ফুট। নরম, ভঙ্গুর শাখা-প্রশাখা ছড়ানো-ছিটানো, দুধকষভরা। পাতা কিছুটা বড় ও লম্বা। পাঁচটি ছড়ানো পাপড়ির ফুলগুলো পাঁচ থেকে আট ইঞ্চি চওড়া। পাপড়ির কেন্দ্রে কিছুটা হলদে বা কমলা রঙের ছোঁয়া থাকে। ফুলের পাশাপাশি এর পাতার বিন্যাসের সৌন্দর্যও দৃষ্টি কাড়ে। এ গাছের নানা অংশের ঔষধি ব্যবহার রয়েছে। নারকেল তেলের সঙ্গে এর কষ চর্মরোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এর ফুল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্রতার উৎস, পূজার উপকরণ। বৌদ্ধরা ভাবে, এটি মৃত্যুহীন প্রাণের প্রতীক।

স্বর্ণচাঁপা

Photo-Zobayer Raihan

স্বর্ণচাঁপা মূলত পাহাড়ি ফুল। সমতলেও দেখা যায় । বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেবেশি দেখা যায়।কাণ্ড সরল, উন্নত, মসৃণ ও ধূসর। পাতা চ্যাপ্টা, উজ্জ্বল-সবুজ, একান্তরে ঘনবদ্ধ। ফুল একক, কাক্ষিক এবং ম্লান-হলুদ, রক্তিম কিংবা প্রায় সাদা। পাপড়ির সংখা প্রায় ১৫। আমাদের দেশে সাদা রঙের ফুল চোখে পড়ে না। মাটি, আবহাওয়া, পারিপার্শ্বিক অবস্থা এমনকি তাজা ও বাসি ফুলের ক্ষেত্রেও রঙের তারতম্য হতে পারে। পরিপূর্ণ প্রস্ফুটিত চাঁপা তীব্র সুগন্ধি। গ্রীষ্মের প্রথম ভাগ থেকে বর্ষা-শরৎ অবধি ফুল থাকে। ফুল শেষ হলে গুচ্ছবদ্ধ ফল ধরে। দেখতে অনেকটা আঙুরের মতো। কাক ও শালিকের প্রিয় খাদ্য। চাঁপা ভেষজগুণেও অনন্য। বাত, চক্ষুরোগ ও পায়ের ক্ষত নিরাময় করে। কাঠ দারুমূল্যযুক্ত।

সর্পগন্ধা

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

সর্পগন্ধা ঔষধি গুনের জন্য বিখ্যাত। এর অন্য নাম চন্দ্রা। আমাদের দেশের সব জায়গায় এটি দেখা যায় না। খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশ, তামাবিলের জঙ্গল এবং রাঙামাটি বান্দরবান এলাকায় কিছু কিছু দেখা যায়। এর আরও কিছু নাম আছে-নাকুলি, সুগন্ধা, রক্তপত্রিকা, ঈশ্বরী, অহিভুক, সর্পদনী। রাজনিঘণ্টুতে আছে-নাকুলী তিক্ত ও কটুরস, ত্রিদোষনাশক ও নানা প্রকার বিষদোষনাশক।

এর শিকড়ের রস রক্তচাপ কমাতে বেশ কার্যকর। মূলের রস মস্তিস্কজনিত রোগে উপকারী। সেজন্য একে পাগলের ওষুধ বলা হয়। সাপের বিষ এবং পোকা-মাকড়ের দংশনে এর রস বিশেষ ফলদায়ক। এর রসে আছে অ্যালকালয়েডস, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

নললতা

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

বৈজ্ঞানিক নামঃ Thunbergia gradiflora

শহুরে বনেদি বাড়িতে কদাচিৎ এই ফুলটি দেখতে পাওয়া যায়। লতানো গাছ আর হালকা বেগুনি বা সাদা ফুলগুলো সব ঝুলে থাকে। পাতা বেশ কর্কশ, কণ্টকময় এবং শক্ত কাণ্ড। ফুল গন্ধযুক্ত এবং কীটপতঙ্গের মধু যোগানদাতা। এর বনজ প্রজাতির দেখা মিলবে রাঙামাটি সহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ের কোলে। বাংলা নাম নললতা। বাগানের প্রজাতির চেয়ে বনজ প্রজাতির ফুল বেশ বড় এবং সংখ্যায় কম ফোটে। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার প্রায় সবখানে এই ফুল দেখা যায়।

এর শিকড়ে আছে প্রচুর পরিমানে ট্যানিন যা সর্পদংশনে উপকারী। এছাড়া এর রস পাকস্থলীর রোগে ব্যবহৃত হয়।

ধুতুরা

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

প্রাচীন ব্যবিলনীয় সভ্যতার এক মৃৎ পাত্রে ধুতুরা ফুলের নিদর্শন পাওয়া যায়। চীনের সম্রাট সেন নুং চার হাজার বছর আগেই ধুতুরার গুনাগুন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। আমাদের দেশের সব জায়গাতেই পাওয়া যায় এই গাছ। নানা ধরনের গুনাগুণের জন্য এঁর বেশ কয়েকটি নাম রয়েছে, যেমন- ধুস্তর, কিতব, মাতুলক, মদন, শিবশেখর, কণ্টফল, মোহন, কলভোন্মত্ত, শৈব ইত্যাদি।  ধুতুরার গাছে আছে ট্রোপেন অ্যাকোলয়েডস। বীজে আছে ডাটুরানোলোন। এসব উপাদান থাকার ফলে এই ফুল বিষাক্ত, অধিক সেবনে মস্তিষ্কের বিকৃতি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

পরিমিত ব্যবহারে এই উদ্ভিদ বিভিন্ন মানসিক ও স্নায়ুবিক রোগে উপকারী। এছাড়া বাত, চর্ম রোগ এসবেও ধুতুরা কার্যকরী ফল দেয়।

দাঁতরাঙা

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

ফুলের নাম দাঁতরাঙা। বৈজ্ঞানিক নাম Melastoma malabathricum. এঁকে আমাদের দেশে বন তেজপাতা, লুটকি এসব নামেও ডাকা হয়। এঁরা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে মালয় এবং ইন্দোনেশিয়ার বন-জঙ্গলে। আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি জাত দেখা যায়। বিশেষ করে পার্বত্য জেলাগুলোতে পাহাড়ের ধারে প্রচুর দেখা যায়। পাতা দেখতে অনেকটা তেজপাতার মত সরু ও লম্বা। পাঁচটি পাপড়িতে আবৃত ফুলটির রঙ গোলাপি থেকে হালকা লাল। পাতা ও ফুলের রঙ লালচে বলেই এঁর নাম সম্ভবত দাঁতরাঙা। এঁর পাতার রস আমাশয় ও পেটের অসুখে উপকারী।

শেয়ালকাঁটা

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

শেয়ালকাঁটার দেখা মিলবে আমাদের গ্রামের আশেপাশের ঝোপঝাড়,খেত খামারের পাশে, পুরনো ভবনে পাশে। এসব এলাকায় শেয়ালের আবাস বলে গ্রামের মানুষ এঁকে শেয়ালকাঁটা নাম দিয়েছে। বন ও পাহাড়ি এলাকা ছাড়াও শেয়ালকাঁটা দেশের অসংখ্য জলাশয়, হাওর-বিল, পানা পুকুর থেকে শুরু করে সুন্দরবন ঘেঁষে সমুদ্রোপকূলের বিশাল এলাকায় চোখে পড়বে। পাতা বেশ ধারালো এবং তিখন কাঁটায় পরিপূর্ণ। দেখতে অনেকটা আফিম গাছের মত। আফিম এবং শেয়ালকাঁটা একই পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। বৈজ্ঞানিক নাম Argemone Mexicana. আমাদের দেশে এসেছে সুদূর মেক্সিকো থেকে। ষোড়শ শতকে স্প্যানিশ বাণিজ্যিক জাহাজে আলুর বস্তা এবং মাটির সঙ্গে সরিষার দানার মত ছোট ছোট বীজ আমাদের দেশে চলে এসেছিল। এরপর ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। ভেষজ পণ্ডিতরা এঁকে অনেক নামে অলংকৃত করেছেন। যেমন- স্বর্ণক্ষীরা, স্বর্ণদুগ্ধা, রুক্সিনী, সুবর্ণা, হেমদুগ্ধী ও কাঞ্চনী। শেয়ালকাঁটার রস কুষ্ঠ রোগে ব্যবহৃত হয়। গাছের পীতবর্ণের রস গনোরিয়া ও উপদংশ রোগে উপকারী

তিতবেগুন

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

তিত বেগুন

বৈজ্ঞানিক নাম: Solarium capsicoides

সমনামঃ Solanum aculeatissimum sensu Schulz non Jacq. Solanum ciliatum Lam. Solanum spinosissimumauct.

বাংলা নামঃ তিত বেগুন।

ইংরেজি নামঃ Cockroach berry

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্যঃ Plantae – Plants

উপরাজ্যঃ Tracheobionta – Vascular plants

অধিবিভাগঃ Spermatophyta – Seed plants

বিভাগঃ Magnoliophyta – Flowering plants

শ্রেণীঃ Magnoliopsida – Dicotyledons

উপশ্রেণিঃ Asteridae

বর্গঃ Solanales

পরিবারঃ Solanaceae – Potato family

গণঃ Solanum L. – nightshade.

প্রজাতিঃSolanum capsicoides All. – cockroach berry.

পরিচিতিঃ  প্রচুর কাঁটাযুক্ত বেগুন জাতীয় গুল্ম। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র দেখা যায়। রাস্তা, রেল লাইনের পাশে, গ্রামীণ মেঠো পথের ধারে এই উদ্ভিদ প্রচুর পরিমানে দেখা যায়। এই গাছের ফল বিভিন্ন রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তেলাকুচা

S

তেলাকুচা

বৈজ্ঞানিক নামঃ Coccinia grandis

সমনামঃ Bryonia grandis L.

Coccinia cordifolia auct. non (L.) Cogn.

Coccinia indica Wight & Arn.

Cephalandra indica Naud.

বাংলা নামঃ তেলাকুচা কাকিঝিঙ্গা, কাওয়ালুলি, কান্দুরি, কুচিলা, মাকাল।

ইংরেজি নামঃ lvy Gourd.

জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ/রাজ্যঃ Plantae – Plants

উপরাজ্যঃ Tracheobionta – Vascular plants

অধিবিভাগঃ Spermatophyta – Seed plants

বিভাগঃ Magnoliophyta – Flowering plants

শ্রেণীঃ Magnoliopsida – Dicotyledons

উপশ্রেণিঃ Dilleniidae

বর্গঃ Violales

পরিবারঃ Cucurbitaceae – Cucumber family

গণঃ CocciniaWight & Arn. – coccinia

প্রজাতিঃCoccinia grandis (L.) Voigt- ivy gourd.

তেলাকুচা একজাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ। এর বোটানিক্যাল নাম Coccinia Cordifolia Cogn। এটি Cucurbitaceaeপরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং ভেষজ নাম: Cocciniaবাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে একে তেলা, তেলাকচু, তেলাহচি, তেলাচোরা কেলাকচু, তেলাকুচা বিম্বী এসব নামে ডাকা হয়। গাছটির প্রায় প্রতিটি অংশই ভেষজ ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়।

এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ।গাঢ় সবুজ রঙের পাতা এবং কাণ্ড এই উদ্ভিদটি আমাদের দেশের প্রায় সব স্থানে দেখতে পাওয়া যায়। বন্য লতা। কাণ্ড নরম ও দূর্বল।  পঞ্চভূজ আকৃতির পাতা , পাতা ও লতার রং সবুজ।

বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, গ্রামীণ ঝোপ-ঝাড়ে তেলাকুচা জন্মায় এবং বংশবিস্তার করে। লতাটি মরে গেলেও পুরাতন মূল শুকিয়ে যায় না। বর্ষায় নতুন করে পাতা গজায় এবং কয়েক বছর ধরে পুরানো মূল থেকে গাছ হয়ে থাকে। শীতকালছাড়া সব মৌসুমেই তেলাকুচার ফুল ও ফল হয়ে থাকে। ফল ধরার ৪ মাস পর পাকে এবং পাকলে টকটকে লাল হয়।

ডায়াবেটিক রোগে তেলাকুচার কান্ডসহ পাতার রস বানিয়ে আধাকাপ করে সকাল ও বিকালে খেলে উপকার পাওয়া যায়।জন্ডিস হলে তেলাকুচার মূল ছেঁচে রস বানিয়ে প্রতিদিন সকালে আধাকাপ পরিমাণ খেলে উপকার হয়। পায়ে পানি জমে পা ফুলে গেলে তেলাকুচার মূল ও পাতা ছেঁচে এর রস ৩-৪ চা-চামচ প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

জারুল ফুল

fghjrtyh

জারুল বাংলাদেশের নিম্নভূমির একান্ত অন্তরঙ্গ তরুদের অন্যতম। লেজারস্ট্রমিয়া গণের এই উদ্ভিদ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রজাতি। এটি মধমাকৃতির পত্রমোচী বৃক্ষ। ম্লানধূসর মসৃণ কান্ডবিশিষ্ট জারুল ২০ মি পর্যন্ত উচুঁ হতে পারে। এর পত্র বৃহৎ, ৬-৮ ইঞ্চি দীর্ঘ, আয়তাকৃতির মসৃণ ও দেখতে গাঢ় সবুজ। এর পাতার পিঠের রঙ ঈষৎ ম্লান। এর পত্রবিন্যাস বিপ্রতীপ। মঞ্জরীঅনিয়ত, শাখায়িত, বহুপৌষ্পিক ও প্রান্তিক। জারুলের ফুলের বেগুনি বর্ণ যেমন আকর্ষণীয় তেমনি শোভন-সুন্দর তার পাঁপড়ির নমনীয় কোমলতা। ছয়টি মুক্ত পাঁপড়িতে গঠিত এর ফুল। যদিও এর রং বেগুনি, তবুও অনেক সময় এর রং সাদার কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম লেজারস্ট্রমিয়া স্পেসিওজা। নামটির প্রথমাংশ এসেছে সুইডেনের অন্যতম তরু অনুরাগী লেজারস্ট্রমের নাম থেকে। স্পেসিওজা ল্যাটিন শব্দ, অর্থ সুন্দর। জারুলের আদি নিবাস চীন, মালয়বাংলাভারতের জলাভূমি অঞ্চল।

Likes(6)Dislikes(1)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন