স্বাস্থ্য

কম্পিউটারের সামনে বসবেন কীভাবে

সঠিক দেহভঙ্গি ভুল দেহভঙ্গি প্রতিদিন কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন যাঁরা তাঁদের নানা রকম শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন: কোমর, ঘাড় ও ঊরুতে ব্যথা, কাঁধ ও আঙুল অবশ হয়ে আসা, হাতের কবজি ব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ শুকনো বোধ করা ও মাথাব্যথা। তবে এসব সমস্যার বেশির ভাগই হয়ে থাকে অনুপযুক্ত চেয়ার-টেবিল ও দেহভঙ্গির কারণে।
বসার ভঙ্গি কেমন হবে?
এমন একটি চেয়ার ব্যবহার করুন, যা আপনার দেহের বাঁকগুলোর সঙ্গে মিশে যায়। চেয়ারে হেলান দিয়ে বসা ভালো।
আপনার কোমর, ঊরু ও হাঁটু যেন একই সমান্তরালে থাকে।
পায়ের পাতা দুটো আরাম করে মেঝেতে বিছিয়ে রাখতে হবে, ঝুলে থাকবে না।
হাত দুটো কাজের ফাঁকে চেয়ারের হাতলে বিছিয়ে রাখা যাবে।
চেয়ারটির গদি এমন হবে, যা খুব শক্ত নয়, আবার বেশি নরমও নয়।
কম্পিউটারটি কেমন হবে?
কম্পিউটারের মনিটর চোখ থেকে অন্তত ২০ থেকে ২৬ ইঞ্চি দূরে থাকবে।
মনিটরের একেবারে ওপরের বিন্দুও যেন চোখের সমান্তরালে থাকে, জোর করে উঁচু হয়ে যেন দেখতে না হয়।
কম্পিউটার টেবিলের নিচে পা দুটি যথেষ্ট আরাম করে জায়গা পাবে, গাদাগাদি করে থাকবে না।
টেবিলের উচ্চতা হবে কনুইয়ের সমান্তরাল।
কি-বোর্ড ও মাউসের জায়গাটি আপনার ঊরুর ১ থেকে ২ ইঞ্চি ওপরে থাকবে।
কবজি সোজা ও বাহু মেঝের ঠিক ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকবে।
মনিটর এমন জায়গায় স্থাপন করুন, যেখানে অতিরিক্ত আলোর জন্য চোখে চাপ পড়বে না। যেমন জানালা থেকে একটু দূরে।
মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিন
একটানা বেশি সময় ধরে একই ভঙ্গিতে বসে কাজ করবেন না। কাজের মধ্যে বিশ্রাম নিন। অফিসে দু-এক পাক ঘুরে আসুন।
ক্লান্ত লাগলে দাঁড়িয়ে মাংসপেশিগুলো টান টান করে নিন। মাসল স্ট্রেচিংয়ের কিছু নিয়ম আছে: দাঁড়িয়ে হাত মাথার ওপর নিয়ে টান টান করুন। মাথা এক দিকের কাঁধের ওপর হেলে কিছুক্ষণ ধরে রাখুন, এবার উল্টো দিকেও তা করুন।
কাঁধ দুটোকে কানের কাছাকাছি উঁচু করে ধরুন, কিছুক্ষণ রেখে নামিয়ে নিন।
হাত দুটো মুঠো করে সামনে টান টান করে আড়মোড়া ভাঙার মতো করে সামনে-পেছনে আনুন।
মাঝে মাঝে মনিটর থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে বাইরে সবুজ কোনো দৃশ্যে চোখ রাখুন ও চোখের বিশ্রাম নিন।

1897743_549239805183972_1788384332_n

খাবারের অন্তত আধঘণ্টা আগে এবং খাবার খাওয়ার আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর পানি পান করা উচিত। খাবার সময় বেশি পানি পান না করাই ভালো। 

1016263_546834958757790_1487100167_n

অনেকেই ভাত খাওয়ার মাঝে ঘনঘন পানি পান করেন। খাওয়ার জন্য পানি পান যে দরকারি তা কিন্তু নয়। অভ্যাসবশত অনেকেই কাজটি করেন; কিন্তু না বুঝে যারা এ কাজটি করেন তারা আসলে তাদের পাকস্থলীর হজমশক্তিকে বিঘ্নিত করেন। অনেকেই মনে করেন, খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে পানি পান খাদ্যকে পাকস্থলীতে পৌঁছতে সাহায্য করে; কিন্তু এটি পুরোপুরি ভুল তথ্য। এতে উল্টো হজমশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খাওয়ার সময় পাকস্থলী রেচক রস নিঃসরণ করে, যা হজমের কাজে লাগে; কিন্তু ওই সময় পানি পান করলে তা ওই রসকে পাতলা তরলে পরিণত করে। এভাবে তা খাদ্যবস্তুর বিপাক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প পানি পানে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, তবে এক গ্লাস বা তার বেশি পান করা অবশ্যই ক্ষতিকর। খাওয়ার দু’ঘণ্টা পর পানি বা পানীয় পানের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে খাদ্য হজমের পাশাপাশি পুষ্টি উপাদান গ্রহণে সক্ষম হয় শরীর। পানির সঙ্গে পাচক রস মিশে গিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি করে তা হলো, এটি খাদ্য বিপাকের জন্য আরও বেশি পাচক রস নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হয় না, যা থেকে বুক জ্বালা ও এসিডিটির মতো সমস্যার উদ্ভব হয়।

হার্টের কথা জানি, কতটুকু জানি

হার্ট স্মার্ট বলে কথা। হার্ট সম্পর্কে অনেকেই জানেন অনেক কিছু। আবার কিছু কিছু জিনিস জানার বাইরেও রয়ে যায়।
* কেউ বলেন, হার্ট অ্যাটাকের সময় হূদ্স্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়, এটা ঠিক নয়। হার্ট অ্যাটাকের সময় হূদ্যন্ত্র স্পন্দিত হতে থাকে, তবে হার্টের টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ রোধ হয়; মৃত্যু ঘটে টিস্যুর। আর হার্ট হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দিলে একে বলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।
* হার্ট অ্যাটাকে নারীদের চেয়ে পুরুষের মৃত্যু বেশি হয়, এ-ও ঠিক নয়। পুরুষের ক্ষেত্রে অবশ্য এটি দেখা দেয় আগে। কিন্তু ঋতুবন্ধের পর নারীরা বেশ কাবু হন হূদেরাগে, মৃত্যু হয়ও এতে। তাই প্রায় সমান বিপর্যয় ঘটে বললেই ঠিক হবে। যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ১ নম্বর ঘাতক হলো হূদেরাগ। এরপর স্তন ক্যানসার।
* হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এমন সন্দেহ হলে দেরি করা ঠিক নয়। শুয়ে-বসে বা বিশ্রাম নিয়ে সময় কাটানো বোকামি। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকা উচিত।

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ নিয়ে নানা কথা
 যদিও হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে সচরাচর উপসর্গ হলো বুক ব্যথা বা অস্বস্তি। তবে এটি সব সময় একমাত্র উপসর্গ নয়। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব, ঘাম হওয়া, মাথা হালকা লাগা, শরীরের ওপরের অংশে যেমন—পিঠ, পেট, গলা, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে।
 ‘মন ভেঙে গেলে হার্টেও ভাঙন’—এটি কেবল কথার কথা। ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’ সমস্যা বটে।
মানুষের মনে শোক, দুঃখ এসব থেকে হার্টের সমস্যা হয়। মনের প্রচণ্ড ক্ষোভ, দুঃখ এসবের কারণে সমবেদী স্নায়ুতন্ত্র হয় উদ্দীপ্ত। ‘লড়াই করো, নয়তো পালিয়ে যাও’—এমন বোধ হয় শরীরে। হঠাৎ করে রাসায়নিক বস্তু যেমন—এড্রিনালিনের প্লাবন বয়, স্তব্ধ হয় হূদেপশি: সাময়িকভাবে হার্ট পাম্প করতে পারে না। উপসর্গ একরকম হলেও হার্ট অ্যাটাক নয় এটি। সুসংবাদ হলো, হূদ্যন্ত্র সহজেই উতরে যেতে পারে এ দুর্যোগ।
বেশ কয়েকটি কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে। যেমন: স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, উচ্চমানের কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও শরীরচর্চা না করা।
পথ্যবিধি একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে প্রচলিত খাদ্যবিধি হূদেরাগের ঝুঁকি কমাতে ফলপ্রসূ। ২০০৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ২৯ শতাংশ ঝুঁকি এতে হ্রাস পায়। রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল মানের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
শরীর খুব পাতলা, সঠিক খাই, ব্যায়াম করি—এ জন্য হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি একেবারে নেই, তা বলা যাবে না। তবে এতে ঝুঁকি অনেক কমে, তা ঠিক। তাই এমন জীবনাচরণ হলো হূদ্বান্ধব।
লবণ খাওয়া কমালে হূদেরাগের ঝুঁকি বেশ কমানো যায়। দিনে এক হাজার ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ কখনো নয়। ভিটামিন-ই ও ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট এখনো প্রমাণিত হিতকারী নয়। প্রাকৃতিক উৎস থেকে নেওয়াই শ্রেয়।

  চা ও চা

1409631585

  চায়ের গুণ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এর এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রোগ প্রতিরোধে জোরাল ভূমিকা রাখে। তবে নতুন কথা হলো— চা-পানে হূদরোগজনিত মৃত্যুঝুঁকি এক চতুর্থাংশ কমিয়ে দেয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো— পানীয় হিসেবে চা কফির চেয়ে ভালো।

কারণ কফি পানে স্বাস্থ্য খারাপ হওয়াসহ এটি ধূমপানের তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়। এখন কথা হলো— চা দিনে কতটুকু পান করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবশ্যই চার কাপের বেশি নয়।

রবিবার স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত হওয়া ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর কার্ডিওলজির মিটিংয়ে গবেষক দলের প্রধান প্রফেসর ডানচিন বলেছেন, নারীদের তুলনায় পুরুষেরা কফি বেশি পান করে; পক্ষান্তরে নারীরা চা একটু বেশি পান করে। তাই পুরুষের তুলনায় নারীদের হূদরোগের মৃত্যুঝুঁকিও কম। দ্য ডেইলি মেইল।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে ৫টি চরম ভুল ধারণা!

sasto

স্বাস্থ্য নিয়ে সবাই চিন্তিত থাকলেও স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের দেখা মেলা বেশ কঠিনই বটে। স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রকম ভুল ধারণাও কাজ করে। নানান রকম ভ্রান্ত ধারণা, কুসংস্কার ও শিক্ষার অভাবের কারণে বিভিন্ন রকম ভুল ধারণা সৃষ্টি হয় অনেকের মাঝে। স্বাস্থ্য সম্পর্কে এইসব ভুল ধারণাগুলো স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বিপদজনক। আসুন জেনে নেয়া যাক এমন ৫টি ভুল ধারনা সম্পর্কে যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক।

অন্যের ডায়েট অনুসরণ করা
অনেকেই ভাবেন যে ওজন কমানোর জন্য সবার ডায়েট একই। কাউকে ওজন কমাতে দেখলে তিনি কী খান সেটা জিজ্ঞেস করে অনেকেই সেটা অনুসরণ করা শুরু করে। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কারণ এক এক ধরণের ডায়েট এক এক জন মানুষের জন্য প্রযোজ্য। আপনার বন্ধু যে ডায়েটটি করছে সেটা আপনার ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। বরং অনেক সময়ে অন্যের ডায়েট অনুসরণ করতে গিয়ে নিজের ক্ষতি ডেকে আনেন অনেকে। এমনকি ওজন বৃদ্ধিও ঘটে থাকে।

ব্যায়াম শুধু মোটাদের জন্য
বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা ব্যায়াম শুধু মাত্র মোটা ব্যক্তিদের জন্যই প্রয়োজনীয়। এই কথা ভেবে অনেক শুকনো মানুষই ব্যায়াম করেন না এবং শরীরে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও হাই প্রেশারের মত কঠিন রোগ গুলো বাঁধিয়ে ফেলেন। ব্যায়াম শুকনো হোক বা মোটা, প্রত্যেকটি মানুষের জন্যই প্রয়োজনীয়। প্রত্যেকেরই প্রতিদিন অল্প সময় করে হলেও সবারই ব্যায়াম করা উচিত।

প্রচুর মাংস খেলে শক্তি বাড়ে
অনেকেই এই ভুল ধারণাটি মনে পোষণ করেন যে শক্তি বাড়াতে প্রচুর মাংস খেতে হয়। মাংস না খেলে শক্তি পাওয়া যায় না এই ধারণাটি সম্পূর্ন ভুল একটি ধারণা। মাংসের প্রোটিনের বদলে মাছ কিংবা ডাল, সিমের বীজ, বাদাম, স্পিরুলিনা ইত্যাদি খেলেও একই পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়। বরং মাংসের তুলনায় এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য আরো ভালো কারণ এগুলোতে মাংসের মতো ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নেই।

নারিকেল তেল স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ
অনেকেই জানেন না যে নারিকেল দিয়ে রান্নাও করা যায়। বেশিরভাগ মানুষেরই একটি ভুল ধারণা আছে যে নারিকেল তেল খাওয়া যায় না কিংবা খাওয়া গেলেও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু নারিকেল তেল একটি অসাধারণ খাবার। নারিকেল তেলে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ আছে যা শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। নারিকেল তেল রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়, রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে, হজমে সহায়তা করে ও মেটাবলিজম বাড়ায়।

প্রতিদিন ৭ গ্লাস পানি খেলেই চলে
আমরা সবাই জানি মানুষের প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত। আমরা এটাও জানি যে আমাদের নুন্যতম ৭ থেকে ৮ গ্লাস পানি খাওয়া উচিত প্রতিদিন। কিন্তু অনেকেই ভাবেন যে প্রতিদিন শুধু মাত্র ৭ গ্লাস পানি খেলেই চলে, এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা হলো নুন্যতম এর হিসাব। সর্বনিম্ন ৭ গ্লাস পানি খাওয়ার কথা বলা হলেও এর বেশি পানি খেতে পারলে ভালো। কারণ অনেক সময় ডায়রিয়া বা ঘামের কারণে শরীরের সব পানি বের হয়ে যায়। তখন প্রচুর পরিমাণে পানি না খেলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা যায়।

খেয়াল রাখুন শিশুর নাস্তায় : হতে পারে ডায়াবেটিকস

1409735985_th  নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সকালে ঠিকমতো নাস্তা না করলে শিশুদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। চার হাজারেরও বেশি শিশুর উপর সমীক্ষা চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতিদিন নিয়ম মেনে নাস্তা করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়।

বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ছোটবেলা থেকে সকালে ঠিকমতো নাস্তা না করলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ব্রিটিশ গবেষকরা জানিয়েছেন, যেসব শিশু-কিশোর প্রতিদিন সকালের নাস্তা করতে অনীহা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে তাদের ‘টাইপ-২’ ভাইরাস হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকে।

অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, গ্লাসগো ও সেন্ট জর্জ লন্ডন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এ গবেষণা চালান। গতকাল প্লোস মেডিসিন জার্নালে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

নয় থেকে দশ বছর বয়সী চার হাজারেরও বেশি ব্রিটিশ শিশুর উপর এ সমীক্ষা চালানো হয়।

বিজ্ঞানীরা অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন, সন্তানদের নাস্তার সময় খেয়াল রাখতে। তারা যেন তাড়াহুড়া করে নাম মাত্র নাস্তা না করে।
সূত্র : ডেইলি মেইল

ফুড পয়জনিং মোকাবিলায় সহজলভ্য সাতটি উপায়

02.-Food-poisoning1-682x1024

আমরা প্রত্যেকেই জীবনে কখনো না কখনো ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হয়েছি। কারো ক্ষেত্রে তো বাড়াবাডড় এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে প্রাণ যায় যায় অবস্থা! যদি ঘরোয়া কিছু প্রতিকার জানা থাকে বলুন তো কেমন হয়। আসুন জেনে নেই ফুড পয়জনিং মোকাবিলায় সহজলভ্য সাতটি উপায়

১. আদা
প্রতিদিন যদি নিয়ম করে এক কুচি আদার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু খেতে পারেন, তাহলে হজমশক্তি ভালো হওয়ার পাশাপাশি পেটে ব্যথা হলেও তা কমাতে সাহায্য করে।

২. জিরে
পেট খারাপ, পেটে ব্যথার মতো সমস্যা নিমেষে ঠিক করে দিতে পারে এক চা-চামচ জিরেগুঁড়ো।

৩. তুলসি
ইনফেকশন সে পেটেরই হোক বা গলার, তা দূর করার জন্য দারুণ উপযোগী তুলসী পাতা থেঁতো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুফল পাওয়া যায়।

৪. কলা
কলাতে প্রচুর পরিমাণে পট্যাশিয়াম থাকে যা ফুড পয়জনিং কমাতে সাহায্য একটা কলার সঙ্গে আপেল গ্রেট করে খেলে বা এক গদ্বাস বনানা শেক খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

৫. আপেল
ডায়রিয়া যে ব্যাক্টেরিয়ার কারণে হয় তার প্রভাব দূর করার পাশাপাশি অ্যাসিড কমাতেও সাহায্য করে।

৬. লেবু
যে সব ব্যাক্টেরিয়ার জন্য ফুড পয়জনিং হয়, তার প্রভাব নষ্ট হয়ে যায় লেবুর রসের অ্যাসিডিটিতে। একটা গোটা পাতিলেবুর রসের সঙ্গে সামান্য চিনি দিয়ে খেতে পারলে খুব তাড়াতাডড় উপকার পাওয়া যায়।

৭. জল
ফুড পয়জনিংয়ের সময় ডিহাইড্রেশনের সমস্য দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই বেশি পরিমাণে জল খাওয়া ইজ আ মাস্ট।

         ক্ষতির কারণ টেলিভিশন!

1-FNS-PHOTOএখন বেশিরভাগ বাচ্চার মধ্যেই টিভিতে বিভিন্ন রকমের কার্টুন চ্যানেল দেখার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে তারা ধীরে ধীরে সেইসব কার্টুন চরিত্রের মতো নিজেদেরতৈরি করার চেষ্টা করে। এই অভ্যাস খুব ক্ষতিকর। শিশুরা টেলিভিশন দেখে সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু এই টেলিভিশনের প্রভাব শিশুদের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। ২ থেকে ৪ বছর বয়সী যেসব শিশু টেলিভিশন দেখে বেশি সময় কাটায়, ১০ বছর বয়সের মধ্যে তাদের কোমরের মাপ বেড়ে যেতে পারে, তাদের অস্বাভাবিকভাবে মোটা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। অতিরিক্ত টিভি দেখার ফলে-হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নামের অসুখগুলি আপনার সন্তানের পরবর্তী জীবনের পরিণতি হিসেবে অপেক্ষা করছে। গবেষণা বলছে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের টিভি দেখা একেবারেই ঠিক নয়। দুই বছরের বেশি বয়সীদের দিনে দুই ঘণ্টার বেশি টিভি দেখা ঠিক নয়।  যেসব শিশু বেশি টিভি দেখে তারা ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিসঅর্ডার’ বা অমনোযোগিতার সমস্যায় বেশি ভোগে।

হৃদরোগ বিষয়ে অ্যামেরিকার সাময়িকীতে প্রকাশিত- অস্ট্রেলিয়ার ‘ওয়েস্টমিড মিলেনিয়াম ইনস্টিটিউট’ এর সেন্টার ফর ভিশন রিসার্চ’এ বিজ্ঞানীরা বলছেন- সিডনির ৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিশুর উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, যাদের সবার বয়স ছয় থেকে সাত বছর এরা গড়ে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘন্টা করে টিভি দেখেছে।  কেউ প্রতিদিন গড়ে ৩৬ মিনিট করে শারীরিক পরিশ্রম করেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা এক ঘন্টার বেশি পরিশ্রম করেছে তারা, যারা এক ঘন্টার কম পরিশ্রম করেছে তাদের চেয়ে সুস্থ, সুন্দর জীবন যাপন করছে।

গবেষক দলের প্রধান ড. বামিনি গোপীনাথ তিনি বলছেন- বাবামা’র উচিত তাদের সন্তানকে বেশি বেশি খেলাধুলায় উৎসাহিত করা। টিভি বেশি দেখায় শিশুদের চোখের পেছনের ধমনিগুলো সরু হয়ে যায়। টিভি বেশি দেখার মানে হলো কম পরিশ্রম আর অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। ফলে শরীরের ওজন যায় বেড়ে যায়- যার পরিণতি হৃদরোগ আর উচ্চ রক্তচাপ। কারণ প্রতিদিন দু’ঘন্টা করে টিভি দেখার বদলে যদি একঘন্টা অনুশীলন করা যায় তাহলে সেটা ভাল ফল দেবে। তাই মুক্ত খেলাধুলার প্রতি শিশুদের উৎসাহিত করতে হবে। এজন্য প্রতিটি স্কুলে সপ্তাহে দুঘন্টা করে বাচ্চাদের শারীরিক পরিশ্রম করানো বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের ফিমেলফার্স্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে- শারীরিকভাবে দুর্বল যেসব শিশু দিনে দুই ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় টিভি বা কম্পিউটারের মনিটরের সামনে কাটায়, তাদের উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৪ গুণ। ৮ থেকে ১০ বছরের ৬৩০টি শিশুর অংশ নেয়া এ গবেষণায় শিশুদের শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, দুর্বলতা ও আলসেমির সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। শিশুদের এমনভাবে বাছাই করা হয়েছে , এদের বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজনের মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা আছে। প্রথমেই শিশুদের টেলিভিশন দেখার অভ্যাস, কম্পিউটারে বসা বা কাজ করা, ভিডিও গেম খেলা এবং পড়াশোনা ও খেলাধুলার অভ্যাসের বিশদ বিবরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য হৃদরোগের আশঙ্কা এড়ানোর জন্য শিশুদের শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখার ওপর জোর দেয়া হয়েছে এই গবেষণা প্রতিবেদনে।

মাসজেনারেল হসপিটাল ফর চিলড্রেন (এমজিএইচএফসি) এবং হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেল্থ (এইচএসপিএইচ) এর গবেষকরা বিগত কয়েক বছর ধরেই শিশুদের টেলিভিশন দেখা ঘুমের ওপর কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। তারা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে যতো বেশি টেলিভিশন, ততো কম ঘুম। এটি বাবা-মায়েদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে,  প্রতি ঘণ্টা বেশি টেলিভিশন দেখার কারণে স্বাভাবিক ঘুম সাত মিনিট করে কমে যায় বলে। পাশাপাশি যে কক্ষে টেলিভিশন থাকে সেখানে টেলিভিশন বন্ধ থাকলেও শিশুদের ঘুম কম হয় বলে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।  ছয় মাস থেকে আট বছর বয়েসী এক হাজার ৮শ’র বেশি শিশুদের ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেন, টেলিভিশন দেখার সময় বাড়তে থাকলে শিশুদের ঘুমের মাত্রা কমতে থাকে। আবার ব্রিটিশ গবেষণায় দেখা গেছে ১২ থেকে ১৫ বছরের ছেলেমেয়েরা ব্রিটেনে দিনে ৬ ঘন্টা পর্যন্ত টেলিভিশন দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। টেলিভিশনে বাচ্চাদের অতিরিক্ত আসক্তি মাদকাসক্তের মতই ক্ষতিকারক বলে দাবি করছেন গবেষকরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাদকসক্তদের মস্তিষ্কে যে ধরনের ক্ষতি বা পরিবর্তন দেখা যায়, বাচ্চারা অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার ফলে তাদের মস্তিষ্কে অনুরূপ পরিবর্তন দেখা দেয়। এ গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন যিনি সেই ড. এরিক সিগম্যান সাবধান করে দিয়ে বলেন, এখনি ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যত বংশধররা শারীরিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে না। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, বাচ্চারা এভাবে টেলিভিশনে আসক্ত হয়ে পড়লে ভবিষ্যত জীবনে এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, টেলিভিশন ছাড়াও বাচ্চারা কম্পিউটার গেমস খেলায় অধিক সময় ব্যয় করে। যতটুকু সময় টেলিভিশন বা কম্পিউটারের পেছনে ব্যয় করা উচিত তারচেয়ে অন্তত ১০গুণ বেশি সময় তারা তা করছে। এমনকি বাচ্চাদের দেখাশোনা করা হয় এমন সব স্থানেও ঘন্টার পর ঘন্টা টেলিভিশন দেখে বাচ্চারা। বাচ্চাদের অভিভাবকদেরও এব্যাপারে সচেতন হবার পরামর্শ দেয়া হয়। কানাডিয়ান ১ হাজার ৩১৪ জন শিশুর টিভি দেখার অভ্যাস বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা বেশি টিভি দেখলে কোমরের মাপ ১ মিলিমিটার করে বেড়ে যেতে পারে এবং পেশিশক্তি কমতে পারে। যুক্তরাজ্যের ‘বায়োমেড সেন্ট্রাল জার্নালে’ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে শিশুদের দিনে ২ ঘন্টার বেশি টিভি না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। তারা জানান, গবেষণায় দেখছেন, শিশুরা গড়ে সপ্তাহে ৮ দশমিক ৮ ঘণ্টা টিভি দেখে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সাড়ে ৪ বছরের ১৫ শতাংশ শিশু সপ্তাহে ১৮ ঘণ্টার বেশি টিভি দেখে। এর প্রভাব সম্পর্কে বলা হয়, এ অভ্যাসের কারণে ১০ বছর বয়সে এসব শিশুর কোমরের মাপ অতিরিক্ত ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার বেড়ে যেতে পারে। এতে শিশুদের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা বেশি থাকে।

এমতাবস্থায় যা করণীয় :
শিশুদের নিরাপদ এবং ভালো যুক্তি দিয়ে নৈতিক বোধটাকে চাঙ্গা করা প্রয়োজন। সন্তান ৪ ঘণ্টা টিভি দেখলে সপ্তাহে সে টিভি দেখে ২৮ ঘণ্টা। কাজেই বিকল্প আকর্ষণীয় ব্যবস্থা করে সময়টা কমিয়ে আনতে হবে। টিভি দেখা বা ভিডিও গেমস খেলার ক্ষেত্রে সময়সীমা ও কিছু নিয়ম বেঁধে দিতে পারেন। পারিবারিক পরিবেশে একসাথে বসে সবাই টিভি নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য অনুষ্ঠান দেখার রীতি চালু করতে হবে। সন্তান কোন ধরণের প্রোগ্রাম দেখছে তা বাবা-মায়েরও দেখা উচিত। তাকে পরে বোঝাতে হবে এর ভালো-মন্দ দিকগুলো। সন্তানকে পারিবারিক ও সামাজিক বিনোদনের সাথে যুক্ত করুন। যেমন- গল্পের আড্ডা, পড়াশুনার আলোচনা, অভিজ্ঞতা আলোচনা, ভ্রমণ কাহিনী, ছোটবেলার গল্প, গ্রামের গল্প, পরিবারের ইতিহাস-ঐতিহ্য, দাদু-নানুদের গল্প ইত্যাদি। সন্তানকে নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় বেড়ানো, সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ, দর্শনীয় স্থান দেখানো, তাদেরকে উপহার দেয়া। খেলার সুযোগ করে দেয়া, মাঠ না থাকলে খোলা জায়গায় মাঝে মাঝে নিয়ে যাওয়া, হাটতে নিয়ে যাওয়া, ছাদে যাওয়া এবং বাসায় পরিবার মিলে কোন খেলায় মেতে থাকা। সন্তানকে গ্রামে নিয়ে যাওয়া দরকার। তাকে সাঁতার শেখানো, গাছে চড়া শেখানো উচিত। বই পড়া, ছবি আঁকা,  যেসব বিষয়ে বাচ্চার আগ্রহ আছে, সেগুলোর প্রতি উৎসাহিত করা এবং পুরস্কৃত করা।  মোটকথা খেয়াল রাখতে হবে- টিভিযেন কিছুতেই শিশুদের একমাত্র বিনোদন না হয়।

বর্ষা কালের জন্য কতগুলি স্বাস্থ্য টিপস
বর্ষার রিনিঝিনি সুরে সুরে মন উদাস হয়ে যায়। মন হারিয়ে যেতে চায় প্রকৃতি কন্যার জলজ-শীতল ছোঁয়ার মাঝে। গাইতে ইচ্ছা করে, ভিজতে ইচ্ছা করে। বর্ষার প্রথম দিকে এমন অনুভূতি হলেও কয়দিন টানা বর্ষণের ফলে নানা রকমের ভোগান্তিতে আর সমস্যায় পরতে হয়। তাই এই বর্ষায় নিজেকে ঠিক রাখতে কতকগুলি টিপস জেনে রাখা ভালো।

১. দিনের বেলা ঘুম এড়িয়ে চলুন। যদিও বর্ষায় দিবা নিদ্রা অনেক মধুর লাগে।
২. বৃষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচাতে রেইন কোট বা ছাতা বহন করুন। কঠিন শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করবেন না।
. আপনি যদি প্রবল বৃষ্টিতে ভিজেন তাহলে প্রথমে পরিষ্কার পানিতে গোসল করুন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজেকে শুকনা করুন।
৪. আপনার চারপাশ শুকনা, পরিষ্কার এবং পরিপাটি রাখুন।
. শরীরের তাপমাত্রা যখন নিচে নেমে যায় তখন ভাইরাস আক্রমণ করে তাই আপনার শরীর উষ্ণ রাখুন।
৬. যারা হাঁপানি বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তারা স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ এড়িয়ে চলুন এতে আপনার বিশেষ ক্ষতি হতে পারে।
. আপনার পা ভেজা রাখবেন না। পা ভিজলে তা শুখনো নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। ডেটল বা স্যাভলুন হাতের কাছে রাখুন। ডেটল বা স্যাভলুন পানিতে মিশিয়ে হাত পা পরিষ্কার করুন যাতে আপনার হাতে পায়ে চুলকানি লাল লাল ফুসকুড়ি বা ত্বকের নানা সংক্রমণ জাতীয় রোগ এড়ানো যায়।
. কাঁদা এবং দুষিত পানি থেকে রক্ষা করবে এমন জুতা ব্যবহার করুন। সে ক্ষেত্রে ভালো রাবারের জুতা বেশি উপযুক্ত।
৯. বাগানে, উঠানে বা বাড়ির বাহিরে খোলা স্থানে বৃষ্টির যে পানি জমে থাকে সেখানে আপনার বাচ্চাদের খেলতে দিবেননা। যদিও বৃষ্টির অল্প হাঁটু পানিতে শিশুরা লাফালাফি করতে বেশি পছন্দ করে।
১০. অসিদ্ধ এবং সালাড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলিতে বর্ষাকালে জীবাণু বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। পরিষ্কার পানি দিয়ে সবজি ভালকরে ধুয়ে নিন এবং জীবাণু মুক্ত করার জন্য ভালো করে সিদ্ধ করুন।
১১. প্রচুর পরিমাণে পরিষ্কার পানি পান করুন। বর্ষাকালে পানি পান করতে ইচ্ছা করেনা কিন্তু নিজেকে সতেজ রাখতে বেশি বেশি পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত পানি পান করুন।
১২. লাল চা পান করুন এতে শরীর চাঙ্গা থাকবে। সম্ভব হলে হারবাল চা পান করুন।

   চোখ ভালো রাখার ৬টি উপায়

eye1-311x1861-300x179

জন্মের পর থেকে মানুষের চোখের দৃষ্টি একটু একটু করে কমতে থাকে। এতই সূক্ষ্ম পরিবর্তন যা পরীক্ষা না করে দেখলে বোঝা যায় না। তবে অনেক সময় সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করে। খুব দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

একথা সত্য যে বয়সের বৃদ্ধির সাথে সাথে দৃষ্টিশক্তির ক্ষয় হয়। তবে আপনার দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ৬টি টিপস অনুসরণ করতে পারেন।

১. গাজর খান
গাজরে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘এ’। ভিটামিন ‘এ’ আপনার দৃষ্টিশক্তিকে বৃদ্ধি করবে। চিকিৎসকদের মতে গাজরে রয়েছে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য সক্রিয় কিছু উপাদান যা খুবই দরকার।

২. ভিটামিন এ, সি, ই ও জিংক খান
ভিটামিন ‘এ’-এর জন্য ছোট মাছ খেতে পারেন। তবে সম্ভব না হলে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেতে পারেন। এগুলো আপনার দৃষ্টিশক্তিকে খারাপ হওয়া থেকে বাঁচাতে পারবে।

৩. ব্যায়াম করুন চোখের
চোখের ব্যায়াম করানোর ফলে আপনার দৃষ্টি ভালো থাকবে। এতে আপনার চোখে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে। তাই প্রতিদিন নিজে নিজে কিছু চোখের ব্যায়াম করতে পারেন।

৪. ব্যবহার করুন সানগ্লাস
প্রখর রোদ্রের হাত থেকে নিজের চোখকে বাঁচাতে সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন। এতে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি, রাস্তার ধুলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছুর কবল থেকে আপনার চোখ রক্ষা পাবে। তাই যখনই আপনি বাইরে বের হচ্ছেন সানগ্লাসটা নিয়েছেন কিনা দেখে নিন।

৫. কাজ করুন সঠিক আলোতে
আপনি যখন যেখানে কাজ করছেন সেখানে উপযুক্ত আলোটা নিশ্চিত করে নিন। ফলে চোখে বাড়তি চাপ পড়বে না। কারন অল্প আলো চোখের উপর মারাত্মক ক্ষতি করে। এমনকি আপনার চোখকে নষ্ট করে দিতে পারে । তাই যখনই পড়তে বসছেন ঘরের আলোটা ঠিক করে নিন।

৬. ঠিক করে নিন কম্পিউটারের আলো
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউারের সামনে বসার আগে অবশ্যই মনিটরের লাইটটা ঠিক করে নিন। কারণ আপনাকে হয়তো কাজের তাগিদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হচ্ছে। মনিটরের আলো সহনীয় পর্যায়ে রাখুন, যাতে চোখের ক্ষতি করতে না পারে। অসহনীয় আলো বা কম আলো দুটোই চেখের জন্য ক্ষতিকর।

আপনিই পারবেন নিজের চোখকে বাঁচাতে। শুধু একটুখানি সচেতনতা অবলম্বন করলেই আর আপনাকে ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে না চোখের জন্য।

Likes(0)Dislikes(0)

Click Here to get update news always
প্রতি মুহুর্তের আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন